প্রস্তুতিমূলক আলোচনার জন্য দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব

ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের প্রস্তুতিমূলক আলোচনার জন্য দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। বুধবার পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের ফিরতি সফর এটি।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভারতের পক্ষ থেকে নভেম্বরে দ্বিপক্ষীয় সফরের তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশের অসুবিধার কারণে ডিসেম্বরের ৩ ও ৪ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক নভেম্বরের প্রথম ভাগে দিল্লি সফল করবেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকরের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এ সফরে শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও বিরোধী দলের নেতা সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, শেখ হাসিনা অক্টোবরের ১৬ তারিখে ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলনে যোগদানের জন্য ভারতের গোয়া যান এবং সেখানে নরেন্দ্র মোদির সাথে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

একই দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যেও একটি বৈঠক হয় এবং সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি হাসিনার দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও আলোচনা হয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার সফরের সময়ে তিস্তা পানি চুক্তির বিষয়ে একটি বড় ধরনের উন্নয়ন হতে পারে।

ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলনে হাসিনা-মোদি বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিস্তা নিয়ে আলোচনা না হলেও তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা আশাবাদি।

এর আগে ২০১০ সালে শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত সফর করেন এবং ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফর করেন।

২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়ে নতুন প্রজন্ম- নয়া দিশার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সেখানে পানি, সীমান্ত হত্যা, সন্ত্রাস, বাণিজ্যসহ কয়েকটি নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়।

নতুন ক্ষেত্রগুলি হচ্ছে ব্লু অর্থনীতি, নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি ও মহাকাশ বিদ্যা।

এদিকে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বিষয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ভারতীয় দল বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানা যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এটি একটি টেকনিক্যাল দল এবং তারা রাজবাড়ী অঞ্চলে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের অংশ পরিদর্শন করেছে এবং যৌথ নদী কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করবে।

তিনি আরও জানান, গঙ্গা ব্যারাজ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং ভারতের জন্যও উপকারী। এ বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।