রামুতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উদযাপন হচ্ছে

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে দেশব্যাপী শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে। এ দান চলবে দীর্ঘ একমাস ধরে।

সেই ধারাবাহিকতায় রামুতেও শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে। রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের কঠিন চীবর দানোৎসবের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ দানসভা চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। রামুর সর্বশেষ কঠিন চীবর দান উদযাপিত হবে উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে।

এ বছর রামুতে মোট ১৩টি বিহােের শুভ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২২ অক্টোবর উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, ২৩ অক্টোবর উত্তর ফতেঁখারকুল বিবেকারাম বিহার, ২৪ অক্টোবর শ্রীকুল মৈত্রী বিহার, ২৬ অক্টোবর দ্বীপ শ্রীকুল ধর্মরতœ বিহার, ২৭ অক্টোবর উখিয়ারঘোনা জেতবন বিহার, ২৮ অক্টোবর রাংকুট বনাশ্রম বিহার, ৩০ অক্টোবর চাকমারকুল অজন্তা বিহার, ২ নভেম্বর হাজারীকুল বোধিরতœ বিহার, ৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সীমা বিহার, ৬ নভেম্বর পূর্ব রাজারকুল সদ্ধর্মোদয় বিহার, ৯ নভেম্বর দক্ষিণ মিঠাছড়ি উমখালী তপোবন বিহার এবং ১১ নভেম্বর জাদিপাড়া আর্যবংশ বিহারে কঠিন চবির দানোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিমধ্যে ২২ অক্টোবর উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, ২৩ অক্টোবর উত্তর ফতেঁখারকুল বিবেকারাম বিহার, ২৪ অক্টোবর শ্রীকুল মৈত্রী বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন হয়েছে।

কঠিন চবির দান সম্পর্কে একুশে পদক প্রাপ্ত, উপসংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের আমাদের রামু কে বলেন, আজ থেকে ২৫৬০ বছর পূর্বে সুদূর গৌতম বুদ্ধের সময়কালে কঠিন চীবর দানের প্রবর্ত্তন হয়। ভিক্ষুসংঘের পরিধেয় বস্ত্রের অভাব মোচন এবং দায়ক-দায়িকাদের হিত কামনায় বুদ্ধ মূলত কঠিন চীবর দানের প্রবর্ত্তন করেছিলেন। দানের এই ধারা আজও অব্যাহত আছে। এই দানের ফল দাতা এবং গ্রহিতা উভয়ে প্রাপ্ত হন।

রামুর বিহারের সংশ্লিষ্ট ভিক্ষুরা জানান, প্রত্যেক কঠিন চীবর দানে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আগত উপাসক-উপাসিকারাও নির্বিঘ্নে যোগদান করছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ আমাদের রামু কে জানান, মাস ব্যাপী চলমান কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ সেই মত কাজ করে যাচ্ছে।