উখিয়ায় ভূয়া চিকিৎসা সনদে মামলা ভোগান্তিতে আট নিরহ ব্যক্তি

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হওয়াতো দূরের কথা কোন ঘটনাও ঘটেনি। তবে ভূয়া চিকিৎসা সনদে হয়েছে মামলা। মামলায় আসামী করা হয়েছে আট নিরহ ব্যক্তিকে। আর বাদি পক্ষ থেকে থানা পুলিশ মোটা অংকের টাকা আদায় করতে পারায় নূন্যতম তদন্ত ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় আদালতে।

প্রতিবেদন দেওয়ার পর পরই ওই মামলায় দিদারুল আলম নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তাকে বিনাকারণে হাজত বাস করতে হয়েছে এক সপ্তাহ। এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায়।

ভূক্তভোগী দিদারুল আলম রত্নাপালং ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া গ্রামের ছৈয়দ আলমের ছেলে। দিদারুল আলম বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তারিখে আমাদের সঙ্গে মৃত কবির আহমদের ছেলে কামাল উদ্দিনের কোন ঘটনা ঘটেনি। অথচ তাঁর মালিকানাধীন শাহ জাব্বারিয়া রাইচ মিলের সামনে মারধরের ঘটনা দেখিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে, ঠান্ডা মিয়ার ছেলে নুরুল আলম ড্রাইভার, ছৈয়দ নূর, ফরিদ আলম, রুমখা ক্লাসপাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে ফকির আহমদ, রুমখা বড়বিলের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে মোঃ আলী, পাইন্যাশিয়ার মোঃ কালুর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও ছৈয়দ আলমের ছেলে বেদারুল আলমকে আসামী করে বিগত ৩ মার্চ উখিয়া থানায় সে বাদি হয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে কামাল উদ্দিন কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতাল ডক্টরস চেম্বার ও সিআইসির পরিচালক ডাঃ ফরাজীর মাধ্যমে সদর হাসপাতালের ভূয়া চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি উখিয়া থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সংশ্লিষ্টদেরকে মোটা টাকায় ম্যানেজ করে তদন্ত ছাড়াই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠাতে সক্ষম হন। এর পর আমাকে আটক করে পুলিশ।

দিদারুল আলম আরও বলেন, সাতদিন পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আমি, ফরিদ ও বেদার যৌথভাবে ভূয়া চিকিৎসা সনদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত, উখিয়া-কক্সবাজারে নারাজি প্রদান করি। পরে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীকে নির্দেশ দেন। চিকিৎসা সনদটি যে ভূয়া তার প্রমাণ পেয়ে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দাখিলও করেছেন। বর্তমানে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলাটি চলমান রয়েছে। আমরা আদালতের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করছি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী কামাল উদ্দিনের জখমি সনদটি ভূয়া। বিষয়টি আমি প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদালতকে জানিয়েছি।