টেকনাফে শিক্ষা-প্রতিষ্টান গুলো গাড়ী পার্কিংয়ের দখলে!

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ:
পর্যটন নগরী টেকনাফ পৌর-শহরের গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষা-প্রতিষ্টানের প্রবেশপথ, যাতায়াতের বিভিন্ন পয়েন্ট গুলো যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং ও অবৈধ ফুটপাট ব্যবসায়ীদের দখলে। এর মধ্যে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ডিগ্রী কলেজ, মডেল প্রাইমারী স্কুল, টেকনাফ বার্মিজ স্কুল অন্যতম।

এতে প্রতিনিয়ত সড়ক পারাপারে বাধা গ্রস্ত হচ্ছে উক্ত শিক্ষা-প্রতিষ্টান গুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা। ইদানিং এই সমস্ত শিক্ষা-প্রতিষ্টানের সামনে দেখা যাচ্ছে বড় বড় গাড়ী পার্কিং করার চিত্র। অথচ টেকনাফ পেীরসভায় কোটি কোটি ব্যয়ে নির্মিত একটি বাস টার্মিনাল রয়েছে। গাড়ীর মালিকরা সেই টার্মিনালটি ব্যবহার না করে গাড়ী পার্কিং করছে পৌর শহরের গুরুত্বপুর্ণ সড়কের দু-পাশে।

সুত্রে আরো জানা যায়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটক বাহী যানবাহন গুলো রাখার জন্য পার্কিং হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যলয়, ডিগ্রী কলেজ ও মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ গুলো।

পরিদর্শনে গিয়ে আরো দেখা যায়, টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ, ডিগ্রী কলেজ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ ভ্রাম্যমান দোকানপাট,সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র ভাবে রাখা হয়েছে পর্যটকবাহী যানবাহন গুলো। এতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, প্রতিদিনের এই যানজটের কারনে চরম দুভোর্গ পোহাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারিরা।

এই ভাবে দিনের পর দিন হ-য-ব-র-ল অবস্থায় চলছে টেকনাফের নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্টানের লেখাপড়া। জীবনের ঝুকি নিয়ে এই যানজটের মধ্য দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করছে কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। বর্তমানে টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও মডেল প্রাইমারীর সামনে বিশাল গাড়ী পার্কিংয়ের দৃশ্য। দুর থেকে দেখলে মনে হবে এখানে কোন শিক্ষা প্রতিষ্টান নেই।

তথ্য অনুন্ধান করে খবর নিয়ে জানা যায়, স্কুলের সামনে রাখা পর্যটকবাহী, প্রতিটি গাড়ী থেকে নেওয়া হয় ১০০-২০০ টাকা। এই টাকা গুলো উত্তোলন করা হয় টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের নামে। অপর দিকে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যলয়ের খেলার মাঠটিও দখল করে নিয়েছে গরু ব্যবসায়ীরা। তবে গরু ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর অত্র স্কুলের জন্য কিছু টাকা বরাদ্ধ দিয়ে মাঠ দখল করে বসিয়েছে গরুর বাজার। এতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা, নিজেদের মাঠে মনের মত, সময় মত খেলা-ধুলা করতে পারছেনা।

teknaf-2-copy

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল পড়ুয়া বেশ কয়েকজন ছাত্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যে স্কুলে লেখাপড়া করি,সেই স্কুলের রয়েছে অনেক সুনাম,প্রতিবছর এই স্কুল থেকে পাঠদান শেষ করে আমাদের মত অনেক শিক্ষার্থী বয়ে নিয়ে এসেছে বিশাল সফলতা,কিন্তু সেই নামিদামী স্কুলের চার পাশের অবস্থা যদি এই রকম হয়, তাহলে আমরা শিক্ষার হার থেকে দিন দিন অনেক পিছিয়ে পড়ব, বাধাগ্রস্ত হবে আমাদের লেখাপড়া, (কথায় আছে বাড়ীর সামনে ময়লা থাকলে,সেই বাড়ীতে কোন ভাল মানুষের ছায়া পড়ে না)

এব্যপারে টেকনাফ শিক্ষিত সমাজের বেশ কয়েকজন অভিমত প্রকাশ করে বলেন, টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অনেক স¤পদ রয়েছে, তার পাশাপাশী এই স্কুলটির উন্নয়নের জন্য প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় এমপি আলহাজ¦ আবদুর রহমান বদি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত কিছু অনুদান, স্কুলের নামে প্রচুর পরিমান সম্পদ থাকা শর্তেও কেন স্কুলের নামে টাকা উত্তোলন করে গাড়ী পার্কিং করতে দেওয়া হচ্ছে ? খেলা-ধুলার মাঠটি কেন গরু ব্যবসায়ীদের দখলে থাকবে! তাই আমাদের সবার দাবি খুব শীঘ্রই অত্র স্কুল ও কলেজের চলাচলের সামনের সড়কটি যানজট মুক্ত করা
হোক, খেলার মাঠ থেকে গরুর বাজার উঠিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলা-ধুলা সু-ব্যবস্থা করা হোক।