‘চীন এখন সুপার পাওয়ার মানতেই হবে’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ নিবিড়। সেই সঙ্গে অবকাঠামোসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। চীন যে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিধর সেটা মানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। খবর বাংলাট্রিবিউনের।

তিনি বলেছেন, ‌‘চীন এখন সুপার পাওয়ার। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত তাদেরকে গঠনমূলক কাজ করেতে দেখেছি। চীনকে নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা চীন নিজেদের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে চায় বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার দুই দিনের সফর শেষে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন চীনের প্রেসিডেন্ট। তাকে বিদায় জানিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন চীনের সঙ্গে কাজ করছি তেমনি ভারতের সঙ্গেও কাজ করছি। আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। আমাদের পক্ষে একা কোনও কিছুই করা সম্ভব না।’

চীনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে আশরাফ বলেন, ‘আমরা চীনের সঙ্গে গত পাঁচ-সাত বছর ধরে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। পশ্চিমা বিশ্ব বলে, তবে বাস্তবায়নে খুবই কম। কিন্তু, চীন বাস্তবায়নে খুব তৎপর। কোনও সময়েই ফাঁকি দেয় না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকে সফল দাবি করে এই মন্ত্রী বলেন, ‘কত টাকা দিল? কত চাল দিল? কত ডাল দিল? এটা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করতে পারেন। বিষয়টা হলো কানেকটিভিটি। চীন আমাদের সঙ্গে আছে। এটাই একটা পরিপূর্ণ বিষয়।’

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিল্প-সাহিত্য, নিরাপত্তা সব কিছু জড়িত। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, চীনের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছু আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমাদের এই অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা। এটা আমাদের অগ্রাধিকার।’

৩০ বছর পর চীনের কোনও প্রেসিডেন্টের সফর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা এক সিস্টেমে চলে। আমরা এক সিস্টেমে চলি। আমরাও তাদের সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করি না। তারাও আমাদের সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করে না।’