চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে ৭ চুক্তি, অনেকগুলো সমঝোতা স্মারক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরে সইয়ের জন‌্য সাতটি চুক্তিপত্র ও তিনটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
শি জিনপিংয়ের ঢাকায় আসার একদিন আগে বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তৈরি করা একটি সার সংক্ষেপে এই তথ‌্য পাওয়া গেছে।রিপোর্ট বিডিনিউজের।

তিন দশক পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটির কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সফরে অর্থায়নের জন‌্য উপস্থাপন করতে আরও ২৮টি প্রকল্পের তালিকাও তৈরি করেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আবুল মনসুর মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চীনা কর্তৃপক্ষ ও আমাদের মধ্যে অনেক কাটছাঁটের পর ২৮টি প্রকল্পের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

“এসব প্রকল্পে চীনা অর্থায়নের জন্য আগামীকাল (শুক্রবার) দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। ক্রমান্বয়ে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে এসব প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হবে।”

চীনা প্রেসিডেন্টের সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, সব মিলিয়ে ২৫টির বেশি চুক্তি (চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক) সই হবে।

সার সংক্ষেপে দেখা যায়, একটি অনুদান, দুটি কাঠামোগত এবং চারটি ঋণচুক্তি প্রস্তুত রয়েছে।

আট কোটি ৩০ লাখ ডলারের চীনা অনুদানটি ব‌্যবহার হবে উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগকালে তথ‌্য দেওয়া এবং উদ্ধার কাজ ত্বরিত করতে ফায়ার সার্ভিসের জন‌্য ১ হাজার মোটর সাইকেল কিনতে।

কাঠামো চুক্তি হবে দুটি; একটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এবং অন‌্যটি দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল‌্যান্ট প্রকল্প নিয়ে।

চট্টগ্রাম মূল শহরের সঙ্গে অন‌্য কর্ণফুলীর ওপারকে সরাসরি যুক্ত করতে টানেল নির্মিত হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে যানজট যেমন কমবে, তেমনি কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় কমে আসবে।

কর্ণফুলি টানেল নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তির পাশাপাশি দুটি ঋণচুক্তি সই হবে। এর আওতায় বাংলাদেশকে ৭০ কোটি ডলার ঋণ দেবে চীন।

দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল‌্যান্ট প্রকল্পের কাঠামোগত চুক্তির সঙ্গে ২৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হবে। ঢাকা ওয়াসার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বালু নদী দূষণমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ধানমণ্ডি, বনানী, বারিধারা, মহাখালী, তেজগাঁওসহ এলাকার পয়োঃবর্জ‌্য শোধন হবে।

তিন ঋণ চুক্তির অন‌্যটি হবে ছয়টি নৌযান, তিনটি অয়েল ট‌্যাংকার ও তিনটি বাল্ক ক‌্যারিয়ার কেনার প্রকল্পে।

সমঝোতা স্মারকগুলোর একটি চীনের আর্থিক সহায়তায় নবম, দশম ও একাদশ মৈত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে।

আরেকটি হবে দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে। এর আওতায় জরুরি অপারেশন কেন্দ্র নির্মাণ, সরকারি কর্মকর্তা, দুর্যোগ ব‌্যবস্থাপনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ, আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ হবে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ‌্যে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ‌্যে তৃতীয় সমঝোতা স্মারকটি সই হবে।

এর বাইরে বিনিয়োগ ও উৎপাদন শক্তিশালীকরণ, সেতু নির্মাণে বিশেষ সহায়তাসহ ২৮টি প্রকল্পের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ জানান, যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে ২২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে এর আগে ৪০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আভাস দিয়েছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সে বিষয়ে ফয়জুল্লাহ বলেন, “এরকম আভাস আমরাও পেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত ইআরডি‘র পক্ষ থেকে আমরা প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের ২৮টি প্রকল্প চূড়ান্ত করলাম। এর বাইরেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো এজেন্ডা থাকতেও পারে। দুদেশের চূড়ান্ত সমঝোতার মধ্যে এ অর্থের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।”

তিনি বলেন, আগের তালিকা থেকে রেলের দুটি প্রকল্প বাদ দিয়ে নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী চীনের সঙ্গে চুক্তির জন্য বাচাই করা ২৮ প্রকল্পের মধ্যে দুটি রয়েছে শিল্পোন্নয়ন প্রকল্প, রেলের উন্নয়নে পাঁচটি, সড়ক পরিবহনে চারটি, বিদ্যুতের সাতটি, জ্বালানির একটি, জীবনমান উন্নয়নে পাঁচটি এবং তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে চারটি।