তিন মানদণ্ডে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলেও নতুন নেতৃত্ব আনছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা, বিগত আন্দোলনে ভুমিকা এবং অতীত রেকর্ড- নেতৃত্ব পাওয়ার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সব বিবেচনায় সংগঠনটির শীর্ষ দুটি পদে আসছেন ছাত্রদলের প্রাক্তন দুই নেতা, যারা এর আগে ওই সংগঠনটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ‍ুরপোর্ট রাইজিংবিডির।

তবে সংগঠনটির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল কারাগারে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে এসে কমিটি দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা এসেছে। তিনি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির নতুন কমিটির ঘোষণা নাও আসতে পারে।

ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও মীর সরফত আলী সপুকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০০৯ সালের অক্টোবরে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে একটি কমিটির মেয়াদ দুই বছর থাকলেও স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো গঠনতন্ত্র না থাকায় কমিটির মেয়াদও নির্দিষ্ট হয়নি। প্রায় ৭ বছর সংগঠনটির নতুন কমিটি হয়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুশলান কার্যালয় সূত্র ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংগঠনটির কমিটি গঠনের আগে পদ প্রত্যাশী সম্ভাব্য নেতাদের বিগত আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক মেধাসহ দল পরিচালনায় কতটা দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন, এসব বিষয় প্রতিবেদন আকারে বিএনপি চেয়ারপারসনের হাতে দেওয়া হয়েছে। দলটির নেত্রী খালেদা জিয়া হজ পালনের সময়ে এ নিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করেছেন। দেশে এসেও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কমিটি গঠন নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি নেত্রী। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ দুটি পদ নিয়ে মতের অমিল থাকায় কমিটি ঘোষণা বিলম্ব হয়েছে। এখন কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের পুর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে সুপার ফাইভ (শীর্ষ পাঁচ পদ) কমিটি ঘোষণা করা হবে। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেওয়া হবে। এর আগে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময়সীমা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা করতে পারেনি অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এ জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলসহ যেসব কমিটি ঘোষণা হবে তাতে বিএনপির হাইকমান্ডের কড়া নির্দেশনা থাকছে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিগগিরই যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির ঘোষণা আসতে পারে। আর সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকছেন ছাত্রদলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সাধারণ সম্পাদকের পদটি জন্য ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। কোনো ধরনের ওলট-পালট না ঘটলে এটিই হতে যাচ্ছে। তবে স্বেচ্ছাসেবদক দলের শীর্ষ দুটি পদের দাবিদার হিসেবে আছেন স্বেচ্ছাসেবদক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী রেজাউল রহমান রিপনও।

সুপার ফাইভের অন্য তিনটি পদ সিনিয়র সহ-সভাপতি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের জন্য পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে সাইফুল ইসলাম পটু, মারুফ হাসান, গোলাম হায়দার মুকুট, সাদরেজ জামান, ইয়াসিন আলী, আনু মো. শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, আসাদুজ্জামান নেসার, হারুন-অর রশিদ, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, তালুকদার অমিত হাসান হাফিজ, আবু সাঈদ, শামসুজ্জামান জামান, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে বর্তমান কমিটির সক্রিয় নেতাদের কেউ বাদ পড়লে, তাকে উপ-কমিটি বা মহানগর বিএনপিতে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন চলমান প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে মহিলা দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি শিগগিরই দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ত্যাগী, যোগ্য এবং বিগত আন্দোলনে ভালো ভুমিকা রেখেছেন তাদের নেতৃত্বে আনা হবে।