প্রতিমা বিসর্জন: সৈকতে সম্প্রীতির মিলন মেলা

এম.এ আজিজ রাসেল:
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী শারদীয় দূর্গোৎসব। ১১ অক্টোবর বিকালে সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের সর্ব বৃহৎ এ উৎসবের পরিসমাপ্তি হয়। বিসর্জন উপলক্ষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের মানুষের সরব পদচারণায় মূখরিত হয়ে উঠে বালিয়াড়ি। পাশাপাশি পর্যটকদের উচ্ছ্বাস আনন্দের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে হাতে হাত কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, জঙ্গিবাদের কলংক মুছে সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলে নব শপথে বলিয়ান হয়। এ যেন অন্য এক রূপ। জনসমুদ্রের এই মিছিল সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হয়।

debi-2-copyদুপুর থেকে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিমা আসতে শুরু করে। অলসতা দূর করতে উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। এতে শহরের উদীয়মান শিল্পী তিশা, প্রবাল, রাহুলসহ স্থানীয়রা গানে গানে মাতিয়ে তোলে আগত পুণ্যার্থীদের। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকাল ৪টায় সব প্রতিমা এসে হাজির। এসময় চোখ যতোদূর যায় শুধু মানুষ আর মানুষ নজরে আসে।

বিসর্জনের আগে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. রণজিত দাশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বিরেন শিকদার এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এতো অল্প সময়ে কোন দেশ জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা অর্জন করতে পারেনি। একমাত্র বাংলাদেশই জঙ্গি দমনে সফল। অল্প কয়েকজন জঙ্গি এ দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে রুখে দিতে পারবে না। আজকের লাখো মানুষের উপস্থিতি জানান দেয় কোন অপশক্তি দেশের ক্ষতি করতে পারবে না। সবাই মিলে ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। দারিদ্রতা, প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা খাতসহ সব দিক দিয়ে বাংলাদেশ আর এখন আগের মতো নেই। এতো দ্রুত বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ হতবাক হয়ে গেছে। এ দেশের মানুষ চাইলে সব পারে। তা প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাইমুমম সরওয়ার কমল এমপি, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ, জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ, পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।

debi-3-copyশুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহীমুল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিসান উদ্দিন জিশান ও সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক দাশ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী মোঃ আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ারুল নাসের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার, কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এড. আমজাদ হোসেন, সহ সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দীপক শর্মা দীপু, এড. বাপ্পী শর্মা, ডাঃ চন্দন দাশ, স্বপন গুহ ও বলরাম দাশ।

এর আগে অতিথিদের সম্মাননা সরূপ ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। পরে একসাথে প্রায় ২০০’শ প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।