মিয়ানমারের গুলিবিদ্ধ দুই নাগরিককে হস্তান্তর করেছে বিজিবি

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ:
গত ৮ অক্টোবর গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি এলাকায় ও সীমান্তরক্ষী বিজিপি ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলা ও দু-পক্ষের গোলাগুলিতে বেশ কয়েকজন আহত ও নিহত হয়েছে। সেই গোলাগুলির ঘটনায় মিয়ানমারের গুলিবিদ্ধ দুই নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে আসার পর ধরা পড়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড টেকনাফ ২ বিজিবি সদস্যদের হাতে।

২ বিজিবি সুত্রে আরো জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সকালে মিয়ানমারে সংঘঠিত ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে আসা দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে হ্নীলা বিওপির সদস্যরা আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হচ্ছে, মিয়ানমার মংন্ডু নাকফুরা এলাকার মো: আনোয়ার (২৭) ও মো. ইউছুপ (৩০) তাদের মধ্যে মো: আনোয়ারের বাম হাত গুলিবিদ্ধ ছিল।

এর পর ২ বিজিবি অধিনায়ক আটক দুই ব্যক্তির বিষয়ে মিয়ানমারের বিজিপি কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে। তারপর তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবশেষে ১১ অক্টোবর দুপুর ১টায় টেকনাফ স্থলবন্দর এরিয়া সংলগ্ন এলাকায় নাফনদীর মাঝ খানে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বিজিপি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উক্ত হস্তান্তর অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদের নেতৃত্বে ৬ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল। মিয়ানমার থেকে অংশ গ্রহন করেন সীমান্তরক্ষী বিজিপি ৫ নং সেক্টর এর ১ নং ব্যাটেলিয়ান অধিনায়ক চ্য থ্যা জ্য সহ ৮ সদস্যের প্রতিনিধি।

টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে আরো জানান, আটক দুই মিয়ানমার নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় তারা মিয়ানমারের নাকফুরা বিজিপি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। সংঘঠিত ঘটনার দিন সকালে তারা মাঠে চাষাবাদ করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে আসার সময় হ্নীলা বিওপির সদস্যদের হাতে তারা আটক হয়। আটক হওয়ার সাথে সাথে তাদের পরিচয় পেয়ে যোগাযোগ করা হয় মিয়ানমার বিজিপি কর্মকর্তাদের সাথে। তার পর তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে স্থলবন্দর এলাকার নাফনদীর মাঝখানে দু-দেশের সীমান্তের চুক্তি অনুযায়ী তাদেরকে বিজিপির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি বিজিপি ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলা ও দু-পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এই খবর শুনার পর থেকে টেকনাফ উপজেলা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড টেকনাফ ২ বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থা জারি করে। বিজিবি সদস্যদের সংখ্যা বাড়িয়ে টইল জোরদার করা হয় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায়।

এই ঘটনার পর থেকে মায়ানমারের সাথে বন্ধ হয়ে যায় সীমান্ত বানিজ্য, অভিবাসন-ট্রানজিট সহ সব ধরনের যাতায়াত। পাশাপাশি নাফ নদীতে জেলেদের মৎস্য আহরণের উপর রাখা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

১০ অক্টোবর সোমবার বিকালে দিকে মিয়ানমারে আটকে পড়া ১৮ জন বাংলাদেশীকেও ফেরত আনা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ২শত নাগরিক এখনো বাংলাদেশে রয়ে গেছে।