‘চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজন সফল আলোচনা’

‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্মার্ট নেগোসিয়েশন (সফল আলোচনা) প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন দেশটির বিভিন্ন শর্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা।’

সোমবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ‘বাংলাদেশ-চীন রিলেশন : কানেকটিং টু ইকোনোমিকস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের অর্থনীতিবিদরা এসব কথা বলেন।খবর রাইজিংবিডির।

আগামী ১৫ অক্টোবর চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর উপলক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের আয়োজন করে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. মাহফুজ কবির।

মূল প্রবন্ধে তিনি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৮০৮.১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ৩১৯.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ৫ বছর চীনে রপ্তানি বাড়ছে ৩০ শতাংশ হারে।

সভায় কানেকটিভিটি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিআইএলআইএ) সহকারী গবেষক নুর মুহাম্মদ সরকার।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চৌধুরী, বিআইআইএসএসের সভাপতি ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদরা বলেন, স্মার্ট নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বিনিয়োগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তাদের শর্ত পূরণও তেমন গুরুত্বপূর্ণ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব। তবে তার আগে দেখতে হবে- তারা আমাদের কী শর্ত দেয়। সেসব শর্ত পূরণের মাধ্যমে দেশে চীনা বিনিয়োগ আরো বাড়ানো যাবে।

সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে রুলস অব অরিজিনের (কাঁচামালের উৎস বিধিবিষয়ক) শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন। রুলস অব অরিজিনের কারণে শূন্য শতাংশ ট্যারিফে পণ্য রপ্তানিতে দেশীয়ভাবে ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাড হয়। ফলে বাংলাদেশের গুটিকয়েক পণ্যই রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। রুলস অব অরিজিনের শর্ত শিথিল করে এর আওতা বাড়াতে হবে।

ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন রশিদ বলেন, আমরা টেক্সটাইল, শিপ বিল্ডিং এবং অ্যাগ্রো প্রোডাক্টসহ সাতটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। চীনকে এসব খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে তারা বিনিয়োগ করলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জনে সক্ষম হবো।