মাশরাফি-সাব্বিরের শাস্তি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারের আউটের পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শাস্তি পেতে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাব্বির রহমানকে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারের আউটের পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শাস্তি পেতে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাব্বির রহমানকে।

খেলোয়াড়দের জন্য আইসিসির নীতিমালা ভাঙার দায়ে শাস্তি হিসেবে এই দুজনের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জশ বাটলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়েছে।

গত রোববার ইংল্যান্ড ইনিংসের ২৮তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। ফল আসে বাংলাদেশের পক্ষে। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদল করে বাটলারকে আউট ঘোষণা করলে বাধনহারা উদযাপনে ফেটে পড়ে মাশরাফিরা।

সেই উদযাপন পছন্দ হয়নি বাটলারের। টিভি পর্দায় তাকে দেখা গেছে অসন্তুষ্ট। তার বাক্য বিনিময়ও হয় বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে।

সোমবার আইসিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাশরাফি ও সাব্বির খেলোয়াড়দের জন্য আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১.৭ ধারা ভঙ্গ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো ক্রিকেটারের আউটের পর তাকে ক্ষ্যাপানো বা তাকে খুঁচিয়ে আগ্রাসী করার মতো ভাষা, কাজ বা অঙ্গভঙ্গী করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

আর বাটলার দোষী ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে আপত্তিকর বা অপমানজনক ভাষা বা অঙ্গভঙ্গী’ করা সম্পর্কিত ২.১.৪ ধারা ভাঙায়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী মাশরাফি ও সাব্বিরের জরিমানা আর বাটলারের তিরস্কার শোনার পাশাপাশি তিন জনের ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডেই একটি করে ‘ডিমেরিট’ পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাশরাফি ও সাব্বির এই ঘটনার সময় বাড়াবাড়ি রকম প্রতিক্রিয়া দেখান। আর আপত্তিকর মন্তব্যে তার জবাব দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বাটলার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন মাঠের দুই আম্পায়ার আলিম দার ও শরফুদ্দৌলা, তৃতীয় আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস এবং চতুর্থ রেফারি আনিসুর রহমান।
তিন ক্রিকেটারই অপরাধ স্বীকার করে ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথের শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক কোনো শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

নতুন নিয়ম চালুর পর দুই অধিনায়কের এটাই প্রথম অপরাধ। তবে সাব্বির এই নিয়মে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার শাস্তি পেলেন।খবর বিডিনিউজের।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আম্পায়ারের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে তরুণ এই ব্যাটসম্যানের ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ কাটা গিয়েছিল এবং তার ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে ২ ‘ডিমেরিট’ পয়েন্ট যোগ হয়েছিল। ফলে এখন সাব্বিরের নামের পাশে আছে ৩ পয়েন্ট।

আগামী দুই বছরের মধ্যে সাব্বিরের পয়েন্ট বেড়ে ৪ বা তার বেশি হলে তা রুপান্তর হয়ে কমপক্ষে দুটি ‘সাসপেনশন’ পয়েন্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পরের এক বা একাধিক ম্যাচ নিষিদ্ধ হবেন তিনি।

দুটি সাসপেনশন পয়েন্ট মানে এক টেস্ট অথবা দুটি ওয়ানডে বা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিষিদ্ধ হওয়া, যা নির্ভর করবে কোন সংস্করণের ম্যাচ আগে আসবে তার উপর।