আবাসিক স্কুল হচ্ছে তিন পার্বত্য জেলায়

দৈনিকশিক্ষা:
তিন পার্বত্য জেলায় ১৩টি আবাসিক মাধ্যমিক স্কুল নির্মাণ সরকার। একই সঙ্গে পুরাতন ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫৫টি হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ‘তিন পার্বত্য জেলায় নতুন আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন ও বিদ্যমান বিদ্যালয়ে আবাসিক ভবন নির্মাণ’ নামে একটি প্রকল্প তৈরি করছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে আটশ’ ছয় কোটি চুয়ান্ন লাখ ৫২ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্গম পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রকল্প চূড়ান্ত করার জন্য সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থী, জনসংখ্যা ও জনসংখ্যার মধ্যে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীর অনুপাত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা, জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, দূরত্ব ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে নতুন ১৩টি নতুন আবাসিক বিদ্যালয় নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বিদ্যালয়ে ২৬টি এবং পুরাতন ১৯টি সরকারি ও ১০টি বেসরকারি মডেল স্কুলে যথাক্রমে ৩৫টি ও ২০টি হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নতুন বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র ও সাজ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পের ৩৯টি স্কুলের জন্য দুই শ’ আসনবিশিষ্ট এবং ৪২টি স্কুলের জন্য দেড়শ’ আসনবিশিষ্ট হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে তিন শ’ ৭২ কোটি ২১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ১৩টি স্কুল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এছাড়া, আসবাবপত্র, যানবাহন, বই, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন খাতে মোট আটশ’ ছয় কোটি চুয়ান্ন লাখ ৫২ হাজার টাকা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, মাউশি’র ৩৩২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ-সুবিধাদি সৃষ্টি প্রকল্পের ১৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯টি হোস্টেল নির্মাণের কথা রয়েছে। এজন্য উভয় প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার জন্য মাউশিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি ও নতুন বিদ্যালয়ের হোস্টেলের জন্য ৬৭১টি পদে রাজস্ব বাজেটের আওতায় জনবল নিয়োগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি হোস্টেলের জনবল নিয়োগের প্রস্তাব নেই। যে কারণে প্রতিটি হোস্টেলের জন্য সমান সংখ্যক জনবল নিয়োগের জন্য ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে অসুবিধার কারণে প্রধানমন্ত্রী হোস্টেলসহ স্কুল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত ডিপিপিতে কিছু ভুল ত্রুটি থাকায় মাউশিকে তা সংশোধনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা ডিপিপি চূড়ান্ত করার পরে মন্ত্রণালয়ে পাঠালে এ নিয়ে সভা করা হবে। এরপর প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হবে। তবে যতদ্রুত সম্ভব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। ২০১৪ সালের ৩১শে আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে তিন পার্বত্য এলাকায় আবাসিক স্কুল নির্মাণের নির্দেশ দেন। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রণালয় প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেন।