তাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগে: প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে যারা এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা বন্ধ করেছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরের অভিজ্ঞতা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন রাষ্ট্রীয় গণমাধ‌্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চ‌্যানেল আইয়ের সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম মাসুম প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অভ‌্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের বার বার নাক গলানোর প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্মূল‌্যায়ন করা হবে কি না এবং পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ককে এগিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “পাকিস্তান তাদের মতামত দিয়েছে।… যারা পরাজিত শক্তি, তারা কী বলল তাতে কি আসে যায়? আমরা তো আমাদের কাজ করেই যাচ্ছি।”

বঙ্গবন্ধু হত‌্যাকাণ্ডের পর সেনা শাসনের মাধ‌্যমে ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমানের সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেওয়া এবং পরে জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১-০৬ মেয়াদে চার দলীয় জোট সরকারে যুদ্ধাপরাধী দুই জামায়াত নেতাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ‘তাদের’ এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

“তাদের সাথে আপানারা সম্পর্ক ছিন্ন করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগে দেশের ভেতরে নেন, এটাই আমি বলতে চাই।”

পঁচিশ বছরের শোষণ-বঞ্চনার পর বাঙালিদের স্বাধিকারের দাবিকে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নির্বিচার হত্যাকাণ্ড শুরু করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তখন প্রতিরোধ ‍যুদ্ধে নামে বাঙালিরা। নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে।

একাত্তরে বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি বাহিনী এদেশেরই কিছু দোসর পেয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাতে সমর্থন দেয়; গঠন করে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী।

সেই জামায়াতের নেতা যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদকে মন্ত্রিসভায় বসিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যাকে একাত্তরের শহীদদের প্রতি ‘চপেটাঘাত’ বলা হয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আদালতের রায়ে নিজামী, মুজাহিদসহ সর্বশেষ জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত‌্যুদণ্ড কার্যকর করার পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর কড়া জবাব দিয়ে বলা হয়, একাত্তরের মানবতাধিরোধী অপরাধ ও গণহত‌্যার বিচার নিয়ে পাকিস্তান ক্রমাগতভাবে যে ‘বিদ্বেষমূলক প্রচার’ চালাচ্ছে, তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি একটি বড় ধরনের আঘাত।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন … আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এইটুকুই।”

আর সার্কের নিয়ম অনুযায়ী সদস‌্য একটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রাধানও সম্মেলনে না গেলে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদস‌্য দেশগুলো মিলে যে সিদ্ধান্ত নেবে, বাংলাদেশ সেভাবেই এগোবে।