সৃজনশীল প্রশ্নে নতুন নিয়ম বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতিতে ছয়টির বদলে সাতটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার নিয়ম বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।খবর বিডিনিউজের।

আন্দোলনকারীরা শনিবার সকালে ‘সাধারণ ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে শাহবাগে সমবেত হয়ে পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে আবারও শাহবাগে সড়ক অবরোধ করার পর সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ সচিবালয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে।

বিকাল ৩টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে রোববার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষনা দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করে শিক্ষার্থীরা।

ভিকারুন নিসা, নটরডেম, হলিক্রস, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার, সরকারি নজরুল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগে পরীক্ষায় ছয়টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হত। নতুন নিয়মে সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিকে হবে।

“এ নিয়ম বাতিলের জন্য আমরা গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও দেব।”

আন্দোলনকারীরা জানান, নতুন নিয়ম বাতিল না হলে বা ৪৮ ঘণ্টার মধ‌্যে শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে ৪ অক্টোবর তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করবেন।

এছাড়া কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা রোববার বেলা ১১টায় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে বিক্ষোভ করবে বলে তেঁজগাও কলেজের এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

সরকারি কবি নজরুল কলেজের মানবিক শাখার এক শিক্ষার্থী বলেন, ছয়টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন‌্য আগে সময় ছিল ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। আর এখন ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মধ‌্যে সাতটির উত্তর দিতে হবে।

অন‌্যদিকে এমসিকিউ প্রশ্নের নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি এবি সিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যারা আন্দোলন করছে তারা ‘টিনএজার’। তারা মনে করছে, তাদের যে পরীক্ষার নিয়ম করা হয়েছে তাতে তারা নির্ধারিত সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না।

“ছুটির দিন বলে তারা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আন্দোলনের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই। দায়িত্বশীল কেউ তাদের সাথে কথা বললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।”