টেকনাফে পুলিশের সাড়াঁশি অভিযান চলছে: ১৭৫ জন আটক, দুটি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার

গিয়াস উদ্দিন ভুলু , টেকনাফ:
সীমান্ত নগরী টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ায় পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র মজুদ সেই অবৈধ অস্ত্র দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে অপরাধীরা। প্রতিনিয়ত সংগঠিত করছে বিভিন্ন প্রকার অপরাধ কর্মকান্ড।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে। সেই খুনের ঘটনার সাথে জড়িত অনেক অপরাধী এখনো রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

সুত্রে আরো জানা যায়, বিগত ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপিং, জবর দখল, পূর্ব শক্রতাসহ বিভিন্ন প্রকার সংঘাতে মাধ্যমে খুন হয়েছে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধিসহ ১১ জন।

এর পাশাপাশি বিভিন সময়ে কিছু কিছু এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করার খবরও পাওয়া গেছে। এদিকে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদেরকে ধরতে সাড়াঁশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ ও ওসি তদন্ত আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত ৫ দিনের ব্যবধানে ১৭৫ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে দুটি দেশীয় তৈরী অস্ত্র, ২ রাউন্ড কার্তুজ ও বিপুল পরিমান মাদক।

পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশ সদস্যদের সাঁড়াশি অভিযানে বিভিন্ন মামলায় পলাতক থাকা ১৭৫ জন অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই সমস্ত সন্ত্রাসীদেরকে ধরতে ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের সাড়াঁশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত (ওসি) আশারাফুজ্জামান আমাদের রামু কে বলেন, এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল রাখতে বিভিন্ন প্রকার অপরাধ কর্মকান্ডে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। তার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পুলিশ সদস্যদেরকে সহযোগিতা করলে এলাকার সন্ত্রাসী, অপরাধী এবং অবৈধ অস্ত্রধারী অপরাধীরা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম সৃষ্টি ও খুন খারাবি করতে পারবেনা। খুব সহজে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমরা সক্ষম হব।