পেকুয়ায় মাকে পিঠিয়ে আহত করায় ছেলে আটক

ইমরান হোসাইন:
শোয়া বিবি। বয়স সত্তর ছুই ছুই। দু’বছর আগে বাধ্যকজনিক রোগে ভূগে তাকে একা করে পরপারে চলে গেছেন স্বামী বদি আলম। ছয় সন্তানের জননী তিনি। চার মেয়ে ও দুই ছেলের সবাই বিবাহিত। দিনমজুর স্বামী মৃত্যুকালে বসত-ভিটে ছাড়া আর কিছু দিয়ে যেতে পারেননি তার পরিবারকে।

ছেলে লেয়াকত আলী ও মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বন কানন এলাকায় স্বামীর দিয়ে যাওয়া বসত-ভিটেতে বসবাস তার। দু’ছেলের আর্থিক টানাপোড়েন থাকায় জীবনের শেষ সময়ে এসেও নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন অন্যের ঘরে কাজ করে। এরমধ্যেও জীবনের বাকি দিনগুলো কোন মতে কাটছিল তার। কিন্তু তার কোন মতে দিন কাটানোটাই ব্যাঘাত সৃষ্টি করে দিলেন নিজের ছেলে লেয়াকত আলী।

ভিটে ভাগাভাগির অজুহাতে মায়ের উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন শুরু করে ছেলে। এমন কোন নির্যাতন বাকি নেই যে, তা মায়ের উপর চালায়নি। অভাগা সে মায়ের দেয়া বর্ণনা শুনলে চোখের পানি ধরে রাখা দায়। নিয়মিত মারধর, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার মত নিন্দনীয় কাজ করতে কার্পণ্য করে ছেলে লেয়াকত আলী।

পরে, স্থানীয়রা বসত-ভিটে ভাগ .করে দিলেও পুরোটা দাবি করে ওই ছেলে। মায়ের কাছ থেকে লিখিত দানপত্র আদায়ের চেষ্টাও করে সে। আর তা না দেওয়াতে নিজ মায়ের উপর এমন নির্যাতন চালায় সে।

এতে ওই দূর্ভাগা মা অতিষ্ট হয়ে পরায় দারস্থ হয় টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর। চেয়ারম্যান বেশ কয়েকবার ওই ছেলেকে শুধরাতে চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি। এমনকি তার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাওয়ায় মায়ের প্রতি আরো হিংস্র হয়ে উঠে ওই ছেলে।

পরিশেষে গত ২৮সেপ্টেম্বর বুধবার ওই ছেলেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে পেকুয়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন ইউপি চেয়ারম্যান।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জিয়া মোঃ মোস্তাফিজ ভূইয়া আমাদের রামু কে বলেন, মা শোয়া বেগমের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে ছেলে লেয়াকতকে আসামী করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার নং- ১৯। আগামীকাল(আজ) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।