টেকনাফে অপরাধের শেষ নেই ! পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষ হত্যা

গিয়াস উদ্দিন ভুলু , টেকনাফ:
টেকনাফে অপরাধ কর্মকান্ডের শেষ নেই, থেমে থেমে চলছে মানুষ হত্যা ও বিভিন্ন প্রকার অপরাধ কর্মকান্ড। টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বেশির ভাগ খুন খারাবি ও অপরাধ কর্মকান্ড সৃষ্টির মূল কারণ হল, দীর্ঘ দিনের পুর্ব শত্রুতা, জায়গা জমি দখল, পারিবারিক কলহ, পরকীয়া প্রেম, মাদক পাচারের অবৈধ টাকার লেনদেন। তার পাশাপাশি এলাকার কিছু মাদক আসক্ত বখাটেরা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে। এই সমস্ত কারণে টেকনাফ উপজেলায় দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে মানুষ হত্যার মত ঘৃন্য অপরাধ।

ফলে কেউ হয়েছে বাড়ি ছাড়া, কেউ হয়েছে সন্তান হারা, আবার অনেকে হারিয়েছে তাদের পিতা-মাতাকে। খবর নিয়ে আরো জানা যায়, গত ২ মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে শিকার হয়ে এই উপজেলায় খুন হয়েছে ৫-৬ জন। সেই ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর ফের টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ৪ সন্ত্রানের জননীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তার পাষন্ড স্বামী।

সুত্রে আরো জানা যায়, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মায়মুনা সরকারী প্রাইমারী স্কুলের নিকটবর্তী আবদুস শুকুরের ভাড়া বাসায় এই হত্যাকান্ডের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই ঘাতক স্বামী পালিয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধু রাশেদা বেগম (৩০) নিকটস্থ টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া মৃত মৌলভী বেলালের মেয়ে।

ঘটনাস্থলে খবর নিয়ে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার কোটবাজার তুতুরবিল এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে ছৈয়দ আহমদ মিস্ত্রী টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পৌর এলাকা ২ নম্বর ওয়ার্ডে পুরাতন পল্লানপাড়া আবদুস শুকুরের ভাড়া বাসায় গত ৩ মাস ধরে সপরিবারে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করত। ঘাতক ছৈয়দ আহমদ পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। ৪ সন্তানের জননী রাশেদা বেগম (৩০) তার ২য় স্ত্রী। বিগত ৩ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। তবে তাদের নতুন পরিবারে কোন সন্তান জন্ম হয়নি। নিহত রাশেদা ও ৪ সন্তানের পিতা মৌলভী ইয়াসিন পাসপোর্ট আইনে একটি মামলায় আটক হয়ে বর্তমানে বান্দরবান কারাগারে রয়েছেন।

unnamed

প্রথম স্বামীর ঔরষজাত ৪ জন শিশু পুত্র হচ্ছে যথাক্রমে ওবাইদুর রহমান (১১), আনোয়ার ছাদেক (৯), রিদুয়ান ছাদেক (৭), ওমর ছাদেক (৫) মায়ের সাথেই থাকত। প্রতি দিনের ন্যায় রাতে মা ৪ শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘাতক স্বামী ছৈয়দ আহমদ মিস্ত্রী ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত জুস স্ত্রীকে খাওয়ানোর পর রশি দিয়ে ঘুমন্ত স্ত্রীকে বেঁধে গভীররাতে ছুরিকাঘাত করে। তার শোর-চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসার আগেই ঘাতক স্বামী পালিয়ে যায়।

ছুরিকাহত গৃহবধু রাশেদা বেগমকে (৩০) দ্রুত টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর দেখে কত্যবরত চিকিৎসক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করে। কক্সবাজার নেয়ার পথে রাশেদা বেগম মারা যান। রাশেদা বেগমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌর কাউন্সিলর আবু হারেছ।

এই ব্যাপারে টেকনাফ সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের অভিমত, এই সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ড ও মানুষ হত্যাসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ করতে হলে টেকনাফ উপজেলায় কর্মরত আইন শৃংখলার বাহিনীর সদস্যদের আরো কঠোর ভুমিকা পালন করতে হবে। প্রতিনিয়ত অপরাধীদের ধরতে চালাতে হবে সাড়াঁশি অভিযান। তা না হলে এই উপজেলা থেকে মাদক পাচার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানুষ হত্যা বন্ধ করা যাবে না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ আমাদের রামু কে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত মহিলার ময়না তদন্ত রিপোট শেষ হওয়ার পর অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।