‘আসল’ সার্টিফিকেট চেনার উপায়

অনেক সময় শোনা যায় লেখাপড়া না করেও অনেকেই বিভিন্ন সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন। আবার কেউ মূল সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়ার পর তথ্য সঠিক রেখে প্রযুক্তির সহায়তায় নকল সার্টিফিকেট তৈরি করেন। সেই সার্টিফিকেট দেখিয়ে তারা চাকরি নেওয়ার চেষ্টাও করেন। অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ জানতেই পারেন না, তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারির জমা দেওয়া সার্টিফিকেট আসল নাকি নকল।কিন্তু সার্টিফিকেট আসল, না নকল তা চেনার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা।রিপোর্ট বাংলাট্রিবিউনের।

নিজে সার্টিফিকেট যাচাই করবেন যেভাবে

সার্টিফিকেট আসল নাকি নকল তা নিজেই যাচাই করা সম্ভব। এসএসসি ও এইচএসসি’র সার্টিফিকেট যাচাই করতে হলে প্রথমে সার্টিফিকেটটি হাতে নিয়ে আলোর সামনে ধরতে হবে। তখন সার্টিফিকেটটিতে একটি শাপলা ফুলের জলছাপ (ছবিতে দেখুন) দেখা যাবে। আবার সার্টিফিকেটটির যেকোনও একপাশ থেকে দেড় ইঞ্চি ভেতরে আড়াআড়িভাবে একটি নিরাপত্তা সুতা থাকে। ওই সুতার ভেতরে উল্টা ও সোজাভাবে লেখা থাকে ‘শিক্ষা বোর্ড’ যা আলোর সামনে ধরলে স্পষ্টভাবেই লেখাটি বোঝা যাবে (ছবিতে দেখুন)। এই দুটি চিহ্ন দেখতে পেলেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যাবে সার্টিফিকেটটি আসল। কিন্তু যে সার্টিফিকেটে এ দুটি চিহ্ন না থাকলে বুঝতে হবে তা নকল।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসাধুরা নকল সার্টিফিকেট তৈরি করেন। অনেক সময় সাটিফিকেট হারিয়ে ফেললে শিক্ষার্টথীরা টাকা খরচ করে নকল সার্টিফিকেট তৈরি করেন। কিন্তু ওই সার্টিফিকেটটিও আসল নয়। কারণ নকল সার্টিফিকেটে শাপলা ফুলের জলছাপ এবং নিরাপত্তা সুতা থাকে না।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে এ বিষয়ে বলেন, ‘অনেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্টিফিকেটে জলছাপ এবং নিরাপত্তা সুতা দিতে পারলেও সুতার ভেতরে ‘শিক্ষা বোর্ড’ শব্দটি লিখতে পারেনা’।

3b5124c1d6118d9ad5db44aef99cbf4b-57e34bd5ea7ae

বোর্ড থেকে যাচাই করবেন যেভাবে

সার্টিফিকেটটি যে বোর্ড থেকে দেওয়া হয় ওই বোর্ডের ওয়েবসাইট অথবা শিক্ষাবোর্ড থেকে সার্টিফিকেট যাচাই ফরম সংগ্রহ করে তা ফরম পূরণ করে বোর্ডে আবেদন করতে হয়। সার্টিফিকেট প্রতি ৫০ টাকা হারে ব্যাংক ড্রাফট করে সার্টিফিকেট জমা দিলে তা যাচাই করে দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাঝে মাঝেই সার্টিফিকেট যাচাই করার জন্য আমরা আবেদন পায়। সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করলে আমরা তিন কর্মদিবসের মধ্যে সার্টিফিকেট যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করি।’

অন্যদিকে মূল সার্টিফিকেটের ফটোকপি যাচাই করে নিতে বা সত্যায়িত করে নিতে হলে একই ফরমে একই পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয়। তবে আবেদন ফরমের সঙ্গে মূল সার্টিফিকেট এবং ওই সার্টিফিকেটের চার কপি ফটোকপি বোর্ডে জমা দিতে হয়। ওই চারকপি সার্টিফিকেট সত্যায়িত করতে ব্যাংক ড্রাফট বাবদ খরচ হয় ১০০ টাকা।

হারিয়ে গেলেও মূল সার্টিফিকেট ফিরে পাবেন যেভাবে

বিভিন্ন কারণে অনেকের মূল সার্টিফিকেট হারিয়ে যায়। ফলে নিরুপায় হয়ে সকল তথ্য সঠিক রেখে নতুনভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে (নকল) সার্টিফিকেট তৈরি করে নেন। কিন্তু এটা দিয়ে আসলে তার কোনও কাজেই আসেনা। কিন্তু মূল সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে আবারও মূলটিই পাওয়া সম্ভব এটা অনেকেই জানেন না। মূল সার্টিফিকেট ফিরে পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ঠ বোর্ডে আবেদন করতে হয়। প্রথমত স্থানীয় থানায় সাটিফিকেট হারিয়ে গেছে এই মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে হয়। এছাড়া একটি জাতায় দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। সার্টিফিকেট পেতে ব্যাংক ড্রাফট বাবদ ৫০০ টাকা খরচ হয়। মূল সার্টিফিকেট ফিরে পেতে সাধারণ ডায়েরির একটি ফটোকপি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির একটি কাটিং যুক্ত করে আবেদন করলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ড মূল সার্টিফিকেট সরবরাহ করে। যা কোনও ভাবেই নকল নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া সাটিফিকেট ফিরে পেতে নিয়ম মেনে শিক্ষাবোর্ড বরাবর আবেদন করলেই আমরা মূল সার্টিফিকেট সরবরাহ করি। কিন্তু মূল সার্টিফিকেট ফিরে পাওয়া সম্ভব এটা অনেকেই না জানার কারণে তারা অবৈধভাবে সার্টিফিকেট তৈরি করে নেন’।

অন্যান্য সার্টিফিকেট যাচাই করবেন যেভাবে

এসএসসি ও এইচএসসি ছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এমনকি অন্যান্য অনেক সরকারি-বেসরকারি ডিপ্লোমা কোর্সের সার্টিফিকেট যাচাই করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সরাসরি যোগাযোগ করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ম মেনে আবেদন করা।