পার্বত‌্যাঞ্চলে হচ্ছে দুটি স্থলবন্দর

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ভারতের দুই রাজ‌্যের সঙ্গে আরও দুটি স্থলবন্দর স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।

নতুন দুই স্থল বন্দর হবে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এর একটি খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্তে, যা ত্রিপুরাকে যুক্ত করবে; আরেকটি রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায়; যা হবে মিজোরামের সঙ্গে। খবর বিডিনিউজের।

এজন্য ‘রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা নতুন দুটি স্থাপনসহ বিদ্যমান আরও তিনটি স্থল বন্দরের আধুনিকায়ন করব।”

বেনাপোল বন্দর স্বয়ংক্রিয় করা এবং ভোমরা ও শাওলা বন্দরের আধুনিকায়নের কাজও এই প্রকল্পের মাধ‌্যমে করা হবে।

আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে অবকাঠামো উন্নয়নে এ প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের সমীক্ষা পরিচালনায়ও যুক্ত ছিল বলে জানান তপন চক্রবর্তী।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী বলেন, নতুন দুই বন্দরের মধ্যে বরকলের থেগামুকে রাস্তা তৈরিসহ বেশ কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। তবে রামগড়ের রাস্তাটি প্রশস্ত করলেই চলবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ প্রকল্পে অর্থায়ন চূড়ান্ত করতে বিশ্ব ব‌্যাংকের ১৪ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল এ মাসের শেষে বাংলাদেশ সফরে আসছে।

এই বিষয়ে কথা জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম এখনই কিছু বলতে রাজি হননি।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে বিশ্ব ব্যাংক স্থলবন্দরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং বাণিজ‌্যিক সম্ভাবনা নিয়ে জরিপ করে। তখন বেনাপোল, বুড়িমারী ও ভোমরা স্থলবন্দরের উপর জরিপ চালান তারা। তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে পার্বত‌্যাঞ্চলে নতুন দুটি স্থল বন্দরের সম্ভাবনার বিষয়টি আসে।

প্রকৌশলী হাসান আলী বলেন, “সরকার মনে করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, বর্তমান স্থলবন্দরগুলোর সীমান্ত পারাপারের সময় কমিয়ে আনা। যেখানে কোনো স্থলবন্দর নেই সেখানে তা স্থাপনের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি।”

মিজোরাম, ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে গতি আনবে বলে আশাবাদী সরকার।

সেই সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের বিপরীত পাশের ওই রাজ‌্যগুলোর চট্টগ্রাম বন্দর ব‌্যবহারের সুযোগ বাড়ালে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here