ধর্ষিতা শিক্ষার্থী কাঁদছে হাসপাতালের বিছানায়

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
মঙ্গলবার সকাল ১১টা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের বিছানায় কাঁদছে শিশু শিক্ষার্থী। কারণ জিজ্ঞাসা করতেই কান্না আরও বাড়িয়ে দিল। অঝোরে কেঁদে কেঁদে বলল-পবিত্র ঈদুল আযহার দিন সে সর্বস্ব হারিয়েছে। এখন তার কিছুই নেই। শিশুটির বাড়ি কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আকবর বলিপাড়া গ্রামে।

আলাপকালে জানা গেছে-গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে উত্তরণ বিদ্যা নিকেতন নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সি শিশুটি (নাম প্রকাশ করা হল না) ধর্ষণের শিকার হয়। সে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে-ঘটনার দিন রাতে ছোট ভাই ইউছুফকে সাথে নিয়ে ফুফুর বাড়িতে যাচ্ছিল। বাড়ি থেকে বের হয়ে মুছা সিরাজ বিলে পৌঁছলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা মোঃ ইকবালসহ আটজন যুবক আমাকে আটকায়। এসময় তারা ইউছুফকে তাড়িয়ে দেয়। পরে বাকি সাত জনের সহযোগীতায় ইকবাল আমাকে জোর পূর্বক খারাপ কাজ করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমার মা‘সহ উপস্থিত লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আমাকে উদ্ধার করে।

ধর্ষিতা শিশুটি আরও জানায়-মোঃ ইকবাল (২৩) চট্টগ্রাম ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। ইকবাল ইতিপূর্বে বহুবার ধর্ষিতাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং জানমালের ক্ষতিসাধন করবে বলে হুমকি দিয়েছিল। এই বখাটের ভয়ে অনেক সময় শিশুটি স্কুলেও যেত না।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সাজ্জাদ আহমদ আমাদের রামু কে জানিয়েছেন-ধর্ষিতা এই স্কুল শিক্ষার্থীর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এই পর্যন্ত দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। আরও প্রয়োজন হতে পারে।

জানতে চাইলে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অংসা থোয়াই আমাদের রামু কে বলেন-এ ব্যাপারে ভিকটিমের চাচা বাদী হয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। ধর্ষক মোঃ ইকবাল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।