অবাধে জাটকা নিধন ও বিক্রি হচ্ছে চকরিয়ায়

এ.এম হোবাইব সজীব, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বঙ্গোপসাগর মোহনায় অবাধে জাটকা নিধন করা হচ্ছে। দিনে-রাতে অসংখ্য জেলে কারেন্ট জালসহ অবৈধ অন্যান্য জাল দিয়ে জাটকা শিকার করছেন। আর এসব জাটকা উপজেলার পৌর শহরের চিরিংগা, হারবাং, ডুলাহাজার ও বদরখালী বাজারে রূপালী ইলিশের পাশাপাশি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা। প্রতি কেজি দরে ১৮০ থেকে ৩’শ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ১৪ থেকে ১৮টি জাটকা ইলিশ। প্রকাশ্য অবাধে চলা জাটকা বেচাকেনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের চকরিয়া-মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ সাগরের বিভিন্ন স্থানে চলছে জাটকা নিধন। দিনে-রাতে অসংখ্য জেলে কারেন্ট জালসহ অবৈধ অন্যান্য জাল দিয়ে জাটকা শিকার করছেন। আর এসব জাটকা প্রকাশ্যেই বদরখালী নৌকা ঘাট সহ বিভিন্ন হাটসহ আশে-পাশের রাস্তা ঘাটে প্রকাশ্যে জাটকা বেচা-বিক্রি চলছে। মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনের সদস্যরা দেখেও দেখছে না। অথচ প্রকাশ্যে এগুলো বেচা-কেনা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেজিতে ১৪ থেকে ১৮টি জাটকা ১৮০ থেকে ৩’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে (বড়) ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। কয়েকজন ক্রেতা জানান, অবাধে জাটকা ধরে বিক্রি করার কারণে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য অধিদফতরের নেয়া উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার আশংকা তৈরী হয়েছে।
প্রতিটি বাজারেই বিক্রি হচ্ছে দুই ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চি আকারের নিষিদ্ধ জাটকা। আর নিষিদ্ধ জাটকা ব্যবসার সাথে সরকারী দলের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা যায়।

কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, সাগর থেকে জেলেদের কাছ থেকে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে কিনে আনা জাটকা ঢাকার পাইকারী বাজারে দেড়শ টাকা এবং খুচরা বাজারে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, জাটকা ধরা, বিপণন ও মজুদের জন্য দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান থাকলেও প্রভাবশালীরা মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনেকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চালাচ্ছে।