পবিত্র ঈদুল আযহা কাল

 হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
দিনক্ষণ তো আগেই ঠিক হয়ে গেছে। কোরবানির পশু কেনার পর্বও শেষ করেছেন অনেকে। প্রস্তুতির পালা প্রায় শেষ। আগামীকাল মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা বছর ঘুরে আবার এল মুসলমানদের জীবনে।

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা পালিত হয়। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আযহায় ঠিক আগের দিনে চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ১০ দিন আগেই ঠিক হয়ে যায় ঈদের দিনক্ষণ। সে অনুসারে পশু কেনা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়াসহ ঈদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে থাকেন সবাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-ঈদুল আযহা যথাযোগ্য মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্য্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন।

এর অংশ হিসাবে জেলার বৃহত্তম ঈদ জামাত শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল অথবা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভার সার্বিক তত্বাবধানে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হক প্রধান এ ঈদ জামাতে ঈমামতি ও বয়ান পেশ করবেন।

শহরের প্রধান ঈদ জামাত ছাড়াও বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, বড়বাজার জামে মসজিদ, বদরমোকাম জামে মসজিদ, বাহারছড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া নতুন বাহারছড়া জামে মসজিদ ও পাহাড়তলী রহমানিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঈদুল আযহা আমাদের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। কোরবানির পশু কেনা, তার যত্ন-পরিচর্যাতেই ঈদের মূল প্রস্তুতি ও আনন্দ। ইতোমধ্যে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারসহ সারা দেশে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কোরবানিদাতারা পছন্দের পশুটি কেনার জন্য সুবিধামতো বিভিন্ন হাটে যাচ্ছেন। পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে তাজা কাঁঠালপাতা, খড়-বিচালি-ভুসি ইত্যাদি। চলতি পথে প্রায়ই চোখে পড়ে গলায় রঙিন কাগজ ও জরির মালা জড়ানো হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়ের দড়ি ধরে ঘরমুখো চলছেন কোরবানি-দাতারা। গবাদিপশুর ডাকও বেশ শোনা যাচ্ছে এখানে-ওখানে। শহুরে আবহে তা একরকম বৈচিত্র্যেরই সংযোজন করেছে।

কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দুবার তিনি পশু কোরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন, পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তাঁর কেউ নেই। আল্লাহপাক তাঁকেই কোরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ.) নির্ভয় চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করতে বলেন। কোরবানি করতে উদ্যত হজরত ইব্রাহিম (আ.) পুত্রস্নেহে যেন হৃদয় দুর্বল না হয়ে পড়েন, সে জন্য তিনি চোখ বেঁধে নিয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলার অপার কুদরতে এ সময় হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

ঈদের নামাজের জামাতের আগে খুতবায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির এই কাহিনি তুলে ধরবেন ইমামেরা। বিনম্র চিত্তে তাঁদের স্মরণ করবেন সারা বিশ্বের মুসলমানরা।

কোরবানি দেওয়া আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ওয়াজিব। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এসব পশুই কোরবানি করার বিধান রয়েছে।

তবে আল্লার সন্তুষ্টি কামনা করে সমস্ত লোভ লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্বকে ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি লাভের ভেতরেই রয়েছে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য।

এই ঈদে পশু কোরবানিই প্রধান ইবাদত। ঈদের জামাত আদায় করে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কোরবানির জন্য। ঈদের জামাতে ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ এবং সারা বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে।