‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর মিনা

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি পবিত্র হজ পালন। সেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর)।

হজের নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় সকাল থেকে হাজিরা পবিত্র মক্কা নগরী থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাঁবু শহরের মিনায় অবস্থান করছেন।

মূলত মিনায় হাজিদের অবস্থানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। হাজিদের ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে এখন মুখরিত মিনা। খবর রাইজিংবিডির।

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৫২০ হাজি ইহরাম বেঁধে পবিত্র মক্কা নগরী থেকে পায়ে হেঁটে, বাসে করে মিনার উদ্দেশে রওনা হন। রোববার ফজরের নামাজ পর্যন্ত তারা মিনায় অবস্থান করবেন। ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করার পর ওইদিনই মিনা থেকে হাজিরা যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে তারা খোলা আকাশের নিচে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে অবস্থানকালে হজের খুতবা শুনবেন হাজিরা। এ সময় তাদের ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আরাফাতের ময়দান থাকবে মুখরিত।

আরাফাতের ময়দানে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর হাজিরা আরাফাত থেকে যাবেন মুজদালিফায়। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন। মুজদালিফাতেও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন হাজিরা।

সোমবার মুজদালিফার জামারায় গিয়ে হাজিরা শয়তানকে মারার জন্য পাথর (কংকর) সংগ্রহ করে নেবেন। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে হজিরা আবার মিনায় ফিরবেন।

মিনায় অবস্থান করে হজের আহকামের অংশ হিসেবে হাজিরা ওই দিন ১০ জিলহজ পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডানো, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও ইহরাম খোলার কাজগুলো শেষ করবেন।

এরপর মক্কায় পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করবেন। এই তাওয়াফের নাম বিদায়ী তাওয়াফ। এর আগে সৌদি আরব গিয়েই হাজিরা একবার পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করেন।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ পালন। মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির হন্য হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) স্মরণে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানকে জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করতে হয়।