ওমর ফারুক আবীরের তিনটি কবিতা

হেঁটে যাই অবিশ্বাসের রাস্তায়

বাবাদের নিজস্ব নিয়ম মেনে পার
করেছি দূরন্ত বেলা।
মা যিনি আঁচলে মুছে দিতেন ঘাম, এবং
বুকের ভেতর জমিয়ে রাখতেন স্বর্গ
ভেবে , আলম যাকে দুপুরে বাগান
চুরির প্ল্যান শুনাতাম,
নীলা যে বুকে ঠাঁই দিয়ে বলেছিল ছায়া
হবে রোজ বিকেলে, অজস্র কথার বৃক্ষ
হবে!
তারা প্রত্যেকে আমাকে ছেড়ে গিয়েছেন
এবং প্রত্যাখান করেছেন।
আমার সকল নালিশকে অস্বীকার
করছেন।
তবুও বোবা হবার ভয়ে এখন কুকুর
পোষছি। মানুষ পোষেছি বেশ। এবং
মানুষরা ছেড়ে যাবে কুকুর তো থাকবে।
মানুষরা ছেড়ে যাবে কুকুর তো
থাকবে।

******************************************************************************************************************

অনিবার্য

ইউরোপ! সহ্য করার ক্ষমতা অমারও
ছিল না
আমার শরীরে এখনো লেগে আছে
তোমার রক্তশোষা প্রণয়ের দগদগে ক্ষত,
বুনন করেছো এক পৃথিবী ইউরোপ
সভ্যতার প্রতিশ্রুত আশ্রমে।
সহ্য করার ক্ষমতা আমারও ছিল না।
তোমার নামে আমার এই মাটি, জমিন,
ফসলের মাঠ সয়ে যাচ্ছে পণ্য-ব্যথা,
পেট ও পিঠ সয়েছে দীর্ঘকাল দূর্ভিক্ষ
আধুনিকতার নামে এখনো সয়ে যায়
যান্ত্রিক জীবন ও অর্থনৈতিক অবরোধ,
‘ইজম’ এর নামে চালাও অন্যায্য ব্যাখ্যা ও
দমন।
তোমার চাকচিক্যের ভেতর যে তৃতীয়
বিশ্বের হরিত অধিকারের স্তুপ জমা
হয়ে আছে, বর্ণের বিশুদ্ধতার নামে
আফ্রিকার কালা বারুদ জমা হয়েছে,
স্বৈরতন্ত্রের নামে জজমা হয়েছে প্রাচ্যের
নাভিশ্বাস, তাকে সরাবার ক্ষমতা
তোমাকে অর্জন করতে হবে।

******************************************************************************************************************

এই ফাগুনে

প্রিয় ফাগুন; তুমি কি ভুলে গেছো
রক্তাক্ত ঠোঁটের ব্যাকরণ,
কিংবা শালিক পাখির সুখের বাসরে
শিমুল তুলোর উষ্ণতা
কৃষাণীর ফসলের মাঠে পড়ে থাকা
সভ্যতার নীল ডায়েরী
পলাশের রক্তরঙা দেহের সাথে
ফাগুনের সুর্যের দ্বন্দ্ব-মিল
ফাগুন; হলুদ খামের বিবর্ণ চিঠির
পাতায় ছেঁড়া গোলাপ
নিভৃত যতনে একটি খোপা; ফুলের
আলপনা ভুলে গেলে?

ফাগুন; তোমার বুকের ক্ষতে লাগানো
আছে সবুজ কৃষক,
দখিন বাতাসের ধুলিকণায় মিশে গেছে
নব পল্লব
আ-দিগন্ত ডুবে গেছে ফাগুন তোমার
ঠান্ডা জলে
তবু তোমার ভেতর লুকিয়ে আছে
বাঙলার রঙিন সভ্যতা
তুমি ভুলে গেছো প্রণয়; আমি বেঁচে
থাকি ফাগুনের কৃষিতে
দখিন দুয়ারের আত্মবিলাপে খুলে যাবে
শীত কাঁপা পর্দা
ফাগুন তুমি বাংলার; দানিয়েল যেন
এ খবর পড়ে
তাই আজ তোমাকে পৌঁছে দিলাম
বাসন্তির হলুদ ডাক।