মহেশখালী উপকূলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদস্যু সম্রাট ফজল কাদের বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশখালী:
বঙ্গোপসাগরে চলছে মাছ ধরার ভরা মৌসুম। আর এ ভরা মৌসুমে উপকূল জুড়ে জলদস্যুদের তান্ডব কোনভাবে থামানো যাচ্ছে না। সাগরে মাছ আহরণ করতে গেলে হামলার শিকার হচ্ছেন জেলেরা। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সাগর ও নদী বেষ্ঠিত উপকূলীয় উপ-দ্বীপ ধলঘাটার বাইরের চরে একটি ট্রলার আটকা কেন্দ্র করে এ সুযোগে কাজে লাগিয়ে আনুমানিক ৩০ লক্ষাধিক টাকার ইলিশ মাছ ভর্তি ট্রলারের মাছ ও মুল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়েছে স্থানীয় ধলঘাটার জেল ফেরৎ ডজন মামলার আসামী হোছাইন আহমদের পুত্র ডাকাত সদ্দার ফজল কাদেরের নেতৃত্বে কালারমারছড়া উত্তর নলবিলা এলাকার আবদুল গণির পুত্র জনু ডাকাত নামে গঠিত দুর্দান্ত একটি শক্তিশালী বাহিনী বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে।

এতে সহযোগিতা করছেন ধলঘাটা এলাকার বশির আলম বলে ট্রলারের মালিক জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন। অপরদিকে জলদস্যু ফজল কাদের বাহিনী এ লুটপাট চালায় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

একটি সূত্র বলছে ট্রলারটি সাগরে বেশি দিন থাকায় তলা ছিদ্র হয়ে ট্রলারের পানি প্রবেশ করায় জীবনের নিরাপত্তার জন্য জাহাঙ্গীরের মালিকানাধিন ট্রলার ধলঘাটা চরে অবস্থান নেন উক্ত মাছ আহরণ করা ট্রলারের মাঝি-মাল্লাসহ শ্রমিকরা।

তবে চট্টগ্রামের নামকরা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ধলঘাটা গিয়ে ঐ ট্রলারটি তার বলে দাবী করলে ডাকাত ফজল কাদেরের চাপের মূখে কৌশলে ট্রলার মালিক দাবীদার বাঁশখালীর জাহাঙ্গীর চলে যান। ওই সময় ট্রলার মালিককে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়।

প্রত্যক্ষদশীরা ট্রলারে ইলিশ মাছ ছাড়াও বেশ কয়েকটি তেলের ড্রাম, ৮টি ইঞ্জিনের পাকা, কয়েকটি জাল ও অনেক মুল্যবান জিনিস পত্র ছিল বলে জানান।

ধলঘাটার সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ জানান, এফবি আল্লাহর দান নামক ট্রলারটি নিরাপদ হিসেবে ধলঘাটার সুতরিয়া বাজারের পশ্চিমের চরে আশ্রয় নেন। এসময় জলদস্যু চক্র এটি ডাকাতি সংগঠিত করে। জানা গেছে, ফজল কাদের বাহিনী উপকূলীয় এলাকার সাগরে হানা দিয়ে নিয়মিত ডাকাতি সংগঠিত করে আসছে। মাঝি – মাল্লাদের অমানুষিক নিযার্তন চালায় বলে এমন অভিযোগ রয়েছে অহরহ।

জানা যায়, প্রায় ১০০ কিলোমিটার সাগর উপকূল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফজল কাদের বাহিনীসহ অর্ধ শতাধিক জলদস্যু সর্দার। সাগরকে নিরাপদ করার দাবিতে মৎস্য ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার শহরে সম্প্রতি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রতিবাদের ঝড় তুললে ও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না বলে জানান জেলে সম্প্রদায়ারের লোকজন।

অপরদিকে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের ট্রলারের ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে ৫ সেপ্টেম্বর দিনদুপুরে। সংবাদ পেয়ে মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি আবদুল মালেক বিষয়টি জেনে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ট্রলারের মালিক দাবীদার জাহাঙ্গীরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসার এক পর্যায়ে চাপের মূখে বাড়ি ফিরে যায় ট্রলারের মালিক জাহাঙ্গীর। পুলিশ ট্রলারটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইয়েদ এর কাছে জিম্মা দেয় বলে ও জাহাঙ্গীর জানান।

এদিকে ট্রলারটি মালিক জাহাঙ্গাগীর তার দাবী করলেও শক্তিশালী ফজল কাদের ডাকাত বাহিনীর কাছে অসহায় ও ফারারশন হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ট্রলার মালিক জাহাঙ্গীর। একটি মহল মনে করেন প্রশাসন সুষ্ট নিরপেক্ষ তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

ট্রলার মালিক জাহাঙ্গীর জানান, জলদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি মামলা করতে পারেন নাই।

এদিকে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বণিক আমাদের রামু কে জানান, ট্রলারটির ব্যাপারে থানায় জিডি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।