চুয়াত্তরে আ.লীগ, ৪১ বছর দায়িত্বে শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক :
তেয়াত্তর বছরের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় স্বাদ পেয়েছে ২৪ বছরের মতো। এর মধ্যে পাকিস্তান আমলে যুক্তফ্রন্টের শরিক হিসেবে দুই বছরের মতো প্রাদেশিক পরিষদে ক্ষমতায় ছিল। স্বাধীনতার ৫২ বছরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারী দলটি দেশের ২২ বছর ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন এ দলটির আরও দেড় বছর ক্ষমতার ম্যান্ডেট রয়েছে। এ ছাড়া দলটি তার প্রতিষ্ঠার দুই-তৃতীংশ সময়ই ক্ষমতার বাইরে ছিল। এর মধ্যে ২২ বছরই পাকিস্তানের তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। অপরদিকে স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর টানা ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়েছে। এ সময় দলটিকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ২৪ বছরের মধ্যে সাড়ে ১৮ বছরই সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন দলটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে তিনি সাড়ে ১৩ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনি ম্যান্ডেটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ শাসনের দায়িত্ব পায়। এরপর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা করে। পঁচাত্তরের কালরাতে একদল দুষ্কৃতিকারীর হাতে সপরিবারে নিহত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতার বাইরে চলে যায় আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুবিহীন দলটি ব্র্যাকেট-বন্দি হয়ে পড়ে। ওই সময় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে নেওয়ার মতো সাহস খুব কম মানুষেরই ছিল বলে জানা যায়। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বকারী দলটি। এরপর দীর্ঘ সংগ্রাম করে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২১ বছর পর ক্ষমতাসীন হয়। মাঝখানে বিএনপির ৫ বছর ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসনকালের পর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর অদ্যাবধি টানা ক্ষমতায় রয়েছে দলটি।

তিনি ১৯৮৬ সালে দুই বছর এবং ১৯৯১ সাল থেকে পাঁচ বছর এবং ২০০১ সাল থেকে পাঁচ বছর— মোট ১২ বছর সংসদে বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব পালন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

৭৩ বছরের ৪১ বছরই দলের দায়িত্বে শেখ হাসিনা

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এ দলটির ৭৩ বছরের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী ও দলটির বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা একাই ৪১ বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা তার বয়সের হিসাবেও ‍অর্ধেক সময় দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণকারী শেখ হাসিনার বয়স এখন ৭৫ বছর চলছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালীন সময়ে বিদেশে থাকাকালে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে বর্তমান পর্যন্ত টানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেতৃত্বে বেশ আগেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন পিতা মুজিবকে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠাকালে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৩ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে টানা ১৩ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করে ১৯৬৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই হিসাবে তিনি ২৫ বছর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু চার টার্মে ৯ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও শেখ হাসিনা ৯ টার্মে টানা ৪১ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অসংগঠিত ও ব্র্যাকেটবন্দি দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছেন। তার নেতৃত্বে দল অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বলে দাবি দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশও আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

রোজ গার্ডেন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ

ঢাকার স্বামীবাগের কে এস দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়। তবে দলটির জন্মসূত্রের সঙ্গে পুরনো ঢাকার ১৫০ নম্বর মোগলটুলিতে শওকত আলীর বাসভবনের সম্পর্কও অবিচ্ছেদ্য। উপমহাদেশ বিভক্তির আগে ঢাকার ১৫০ মোগলটুলীতে স্থাপিত হয়েছিল ‘ওয়ার্কার্স ক্যাম্প’ ও মুসলিম লীগ পার্টি হাউস। কলকাতা থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকায় এলে তিনি শওকত আলীকে মুসলিম লীগ ছেড়ে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পূর্ববঙ্গ কর্মীশিবিরের নেতাদেরকে নতুন সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। ১৫০ নম্বর মোগলটুলির শওকত আলীর বাসভবন ও কর্মীশিবির অফিসকে ঘিরে কয়েকমাসের প্রস্তুতিমূলক তৎপরতার পর রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। ওই সময় দলের স্থায়ী কোনও কার্যালয় না থাকায় ১৫০ মোগলটুলিকেই অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি নেতাদের বাসায় বসেও দল পরিচালনার নীতি-কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো। এছাড়া ছাত্রলীগের গোড়াপত্তনও হয়েছে মোগলটুলির এই ঠিকানায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশ বিভাগের পর স্খায়ীভাবে কলকাতা ছেড়ে এই মোগলটুলিতে এসে ওঠেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে অন্তত আট বার। ১৯৫৩ সালে কানকুন বাড়ি লেনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হতো। ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬ নম্বর সিমসন রোডের ঠিকানায় যায় আওয়ামী লীগের অফিস। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১ নম্বর নবাবপুর রোডে দলীয় অফিস নেন। এই কার্যালয়েই ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এর কিছুদিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে বসা শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ১৯৮১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হয় ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয় আওয়ামী লীগ। পরে পাশের ব্যক্তিমালিকানার কিছু জমিও দলের নামে কেনা হয়। ২০১৮ সালে এখানেই স্থায়ীভাবে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠার ৬৯ বছরের মাথায় একটি আধুনিক স্থায়ী কার্যলয় পেলো আওয়ামী লীগ।

নৌকা যেভাবে আওয়ামী লীগের প্রতীক

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার চার বছরের মাথায় কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এর সঙ্গে পরে যুক্ত হয় নেজামে ইসলাম পার্টি। যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে তারা প্রতীক হিসেবে নৌকাকে বেছে নেয়। তবে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে নৌকার আগে লাঙ্গল প্রতীক চেয়েছিল যুক্তফ্রন্ট। যদিও লাঙ্গল প্রতীক ছিল শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন অবিভক্ত ভারতের কৃষক প্রজা পার্টির। যার কারণে তৎকালীন পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন লাঙ্গল প্রতীক যুক্তফ্রন্টকে দেয়নি। সে জন্য যুক্তফ্রন্ট পরে নৌকাকে প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নদীমাতৃক বাংলার বাহন হিসেবে নৌকা জনপ্রিয় ও বেশ প্রচলিত হওয়ার কারণেই নৌকাকে তারা প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়।

নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে যুক্তফ্রন্ট ভেঙে গেলে নৌকা প্রতীক পায় আওয়ামী লীগ। যুক্তফ্রন্টের সব চেয়ে বড় ও নির্বাচনে বেশি আসন পাওয়ার কারণেই দলটি নৌকা প্রতীক পেয়েছিল। ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে জন্ম নেয় আওয়ামী লীগ এবং তখনও নৌকা প্রতীকই পায়। কিন্তু নৌকায় চড়ে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগকে অপেক্ষা করতে হয় আরও ১৩ বছর। পাকিস্তানে ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে ১৬০টি আসনে জয়ী হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে (১৯৭৩ সালে) আওয়ামী লীগ ছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কমিশনের কাছে ‘নৌকা’ প্রতীক দাবি করেছিল। তবে ইসি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেই নৌকা প্রতীক দিয়েছিল। একাধিক দল প্রতীকটি চাওয়ার কারণে তৎকালীন ইসির পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা বরাদ্দের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা হলো— আওয়ামী লীগ সত্তরের নির্বাচনে এই প্রতীক ব্যবহার করেছে। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে দলটির উল্লিখিত প্রতীক ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। কমিশন জানায়, প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে নৌকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতার মধ্যে এ দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় বিপ্লবের ঘোষণা দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ জুন সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) যে গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ই নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগ পুনর্জীবিত হওয়ার পরেও দলটি প্রতীক হিসেবে নৌকা-ই পেয়েছে। ওই সময়ে অ্যাডভোকেট আবদুল মালেকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। সেই থেকে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকাই আছে। অবশ্য এ সময় কেউ কেউ নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে নৌকা বরাদ্দ চাইলেও তাতে ইসির সাড়া মেলেনি।

অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতে নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দে ইসির আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অতীতের দৃষ্টান্ত ও রেওয়াজ অনুসরণ করে সেটা করা হয়। তবে ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হওয়ার পর দলের একক প্রতীক চূড়ান্ত করার বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে। নিবন্ধিত দল হিসেবে আওয়ামী লীগ স্থায়ীভাবে দলের প্রতীক হিসেবে নৌকা বরাদ্দ পেয়েছে।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন