বারী হাতিরঝিলে কেন, কার কাছে গিয়েছিলেন, উত্তর খুঁজছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক :
যেখানে ডিবিসি নিউজের আব্দুল বারীর গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে, সেই হাতিরঝিলে তিনি কেন কিংবা কার কাছে গিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনটির অনুষ্ঠান প্রযোজক বারী (২৮) থাকতেন কর্মস্থলের পাশে মহাখালী অয়্যারলেস গেইট এলাকার একটি মেসে।

মেস থেকে মঙ্গলবার রাতে তার বেরিয়ে যাওয়ার তথ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পেয়েছেন। এরপর সকালে তার গলা ও পেট কাটা লাশ পাওয়া যায় রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিলে।

বারী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার বলে পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হাসান ফিরোজকে উদ্ধৃত করে ডিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, “ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পরে সে বাঁচার জন্য পানিতে নেমে পড়ে, কারণ তার জামা কাপড় ভেজা ছিল। পরে বারী আবার লেক পাড়ে উঠে আসলে তাকে মাটিতে শুইয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।”

কিন্তু বারীর কোনো শত্রু থাকার খবর এখনও পুলিশ পায়নি। ফলে কী কারণে কার সঙ্গে বা তিনি হাতিরঝিলে কার কাছে গেলেন, তা জানার চেষ্টায় আছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্তে নামা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার সেখানে অবস্থান করার কথা না।

“তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে সেখানে ফেলে রেখেছে, বিষয়টি এমনও মনে হচ্ছে না।”

যে স্থানে লাশ পড়ে ছিল, তা হাতিরঝিল থেকে নিকেতনের দিকে বের হওয়ার ‘শটকাট’ রাস্তা, পাশে নর্দমা।

সাধারণত মাদকের সঙ্গে জড়িতরা ওই পথটি ব্যবহার করে থাকে বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর।

মঙ্গলবার ছিল বারীর সাপ্তাহিক ছুটির দিন। মহাখালীর অয়্যারলেস গেইট এলাকার মাদ্রাসাগলির যে বাসায় তিনি থাকতেন, সেখান থেকে রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে তাকে বের হয়ে যেতে একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখতে পেয়েছে পুলিশ। তবে তখন তার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বারীর লাশের পাশে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, জুতা ও একটি চাকু রাখা ছিল। ফলে এটি নিছক ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়াও কঠিন।

বারীর মোবাইল ফোন ঘেঁটে পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “তিনি মোবাইল খুব কমই ব্যবহার করতেন। যার সাথে কথা বলতেন, খুব অল্প সময় কথা বলতেন। এমনও দেখা গেছে, তিনি টানা কয়েকদিন কারও সাথে মোবাইলে কথা বলেননি।”

ডিবিসি নিউজে বারীর সহকর্মীরাও বলছেন, ছয় মাস আগে এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তাকে খুব চুপচাপই দেখেছেন তারা।

ডিবিসি নিউজের প্রধান প্রতিবেদক রাজিব ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সম্প্রতি তার গলার আওয়াজ আমরা শুনেছি বলে মনে হয় না। উনি নিরিবিলি ছিলেন, প্রয়োজনের বাইরে একটিও কথা বলতেন না। কাজ করতেন, চলে যেতেন।”

বারীর বড় ভাই আব্দুল আলীমকে উদ্ধৃত করে ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না।

বারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের চণ্ডিদাসগাতি এলাকায়। আগামী ১০ জুন বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে তার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল বলে তার কয়েকজন সহকর্মী জানতে পেরেছেন।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বুধবার সন্ধ্যায় ডিবিসি নিউজ কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয় বারীর লাশ। সেখানে জানাজা শেষে পরিবার লাশ নিয়ে যায় সিরাজগঞ্জে।

তার আগে রাতেই বারীর বড় ভাই আব্দুল আলিম বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় আসামি হিসাবে কারও নাম উল্লেখ না করে ‘অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিরা’ পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর বলেন, তারা আরও কিছু সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

“নানা বিষয়কে সামনে রেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,” বলেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তারা সম্ভাব্য সব বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডটি ‘সর্বাধিক গুরুত্ব’ দিয়ে ছায়া তদন্ত করছেন।

সূত্র : বিডিনিউজ