প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা দেয়া ১৩ প্রার্থীর সাজা

অনলাইন ডেস্ক :
নওগাঁয় তৃতীয় ধাপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। আটক ১৩ জনের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনের প্রত্যেককে ২০০ টাকা জরিমানা, দুইজনকে ১০ দিনের, ১ জনকে ১৫ দিনের, ১ জনকে ২০ দিনের, বাকি ৭ জনের প্রত্যককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দণ্ডিত প্রার্থীরা মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে অসাদুপায় অবলম্বন করে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন বলে জানিয়ছেন ন‌ওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা খানম।

শুক্রবার নওগাঁ জেলা শহরের ২৫টি কেন্দ্রে ১৪ হাজার ২২৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়েছে।

ওই গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিষয়টি জানতে পেরে ওই চক্রের মূল হোতা মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী কণা খাতুনসহ পরীক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি রাখা হয়। পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ১৩ জন চাকুরী প্রত্যাশী অসদুপায় অবলম্বন করলে তাদের আটক করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। এ চক্রের মূলহোতা ডিগ্ৰী কলেজ এলাকায় বাসিন্দা মেহেদী হাসান পালিয়ে গেলে‌ও তার স্ত্রীর কণা খাতুনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে ।

জানা গেছে, কণা খাতুন প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতা মেহেদী হাসানের স্ত্রী। তিনি জেলার বদলগাছী উপজেলার রামশাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ওই স্কুলে যোগদান করেছিলেন।

ন‌ওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা খানম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে এই পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ করে পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বন করার অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম দণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতার স্ত্রী কণার বিরুদ্ধে থানায় বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য নিয়ে আসা হয়। তবে আইনগত (ধারা) সমস্যা থাকায় বিকেলে তাকে আবারও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : দৈনিক শিক্ষাডটকম