রামুতে অবহিতকরণ সভায় জাতীয় পুষ্টিসেবা লাইন ডিরেক্টর: মায়ের দুধের সমকক্ষ, বিকল্প, কাছাকাছি কিছুই নাই

খালেদ শহীদ, রামু :
মায়ের দুধের সমকক্ষ কিছু নাই। বিকল্পও কিছু নাই, কাছাকাছিও কিছু নাই। যদি আপনার শিশুকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে চান, আপনার শিশুকে যদি অসুস্থতার মধ্যে ফেলতে না চান, তাহলে মায়ের দুধ খাওয়ান। মায়ের দুধের উপকারিতা ও গুড়া দুধের অপকারিতা বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পুষ্টিসেবা লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান এক কথা বলেন। মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন ১০১৩ ও এর বিধিমালা ২০১৭ বিষয়ক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া।

রামুতে মায়ের দুধের উপকারিতা ও গুড়া দুধের অপকারিতা বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন, জাতীয় পুষ্টিসেবা লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথি ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ১৮০ দিন পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ ছাড়া অন্যকিছু খাওয়াবেন না। একটি শিশু ২৪ ঘন্টায় ছয়বার প্রশ্রাব করলেই বুঝতে হবে, শিশুটি পর্যাপ্ত খাওয়ার পাচ্ছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নাই। তিনি বলেন, শিশুকে ৭ মাস থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাওয়ার দিতে হবে। বাড়িতে তৈরি খাওয়ারই খাওয়াবেন শিশুকে। তাহলে তার মানসিক বিকাশ ঘটবে। মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ না থাকলে, সেই শিশু নাগরিক হিসেবে বুঝা হয়ে দাঁড়ায়। দুই বছরের নীচে কোন অবস্থাতেই শিশুকে ফুলক্রীম দুধ খাওয়াবেন না।

জাতীয় পুষ্টিসেবা লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহŸান জানিয়ে বলেন, রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করবেন না। আর্থিক বা সামাজিক কোন ভাবেই রোগীর সাথে বা রোগীর সাথীর সাথে দুর্ব্যবহার করবেন না। আমাদের দেশ ভালোর দিকে যাচ্ছে, উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন ভালোর দিকে যায়, শিশুটি পুষ্টি সমৃদ্ধ হয়, সেই চিন্তা চেতনায় আমাদের কাজ করতে হবে। দেশটার জন্য আমাদের আরও যতœশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের কারও কর্মকান্ড যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রওশন জাবেন আক্তার আলো, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা, জাতীয় পুষ্টিসেবা ডেপুটি ম্যানেজার ডা. নন্দলাল সূত্রধর ও ডা. সুপ্তা চৌধুরী, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল হোসাইন প্রমুখ।

অবহিতকরণ সভায় মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন, রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৃজন রায় তীর্থ। বক্তব্য রাখেন, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এম. এন. সি. এইচ. সুপারভাইজার ডা. খালিদ শামস্ চৌধুরী।

ইউএনও প্রণয় চাকমা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, রামু উপজেলায় সচেতন ভাবে মাতৃদুগ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ আছে কিনা সন্দেহ। এ উপজেলায় অধিকহারে বাল্যবিয়ে হচ্ছে। সামাজিকভাবে সচেতন করা না গেলে, অল্প বয়সে বিয়ে ও অপরিণত বয়সের মায়ের মৃত্যু থামানো যাবেনা। আমরা সকলেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করবো। আমরা কোনভাবেই বাল্য বিবাহ সমর্থন করবো না।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অবহিতকরণ সভায় রামু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমন্ডার মুক্তিযোদ্ধা রনধীর বড়ুয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মাসুদ সিদ্দিকী, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌর চন্দ্র দে, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল কালাম, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলিম সহ ইমাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।