রামুর প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথের বেঁচে নেই

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু :
রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সারমিত্র মহাথের পরলোক গমন করেছেন। ১৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

গত ১৮ এপ্রিল, সোমবার রাতে অসুস্থতাবোধ করলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের সিসিইউ (কার্ডিয়াক/করোনারি কেয়ার ইউনিট) বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা ক্রমশ আরো অবনতি হতে থাকলে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চট্রগ্রাম মেডিকেলে রেফার করেন। আজকে প্রস্তুতি সেরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এম্বুলেন্সযোগে তাকে নিয়ে চট্রগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়া হলে পথিমধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে রামু হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভদন্ত সারমিত্র মহাথের ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আনন্দমোহন বড়ুয়া এবং মাতার নাম চারুবালা বড়ুয়া। শিশুকাল থেকেই তিনি প্রব্রজ্যাধর্মে দীক্ষিত হন। পরে বিশ বছর পূর্ণ হলে উপসম্পদা তথা ভিক্ষুধর্ম গ্রহণ করেন।

ভদন্ত সারমিত্র মহাথের একাধারে একজন আবাল্য ব্রহ্মচারী, সুবক্তা এবং অত্র অঞ্চলের একজন জেষ্ঠ্য বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন। বৌদ্ধ সমাজে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল।

এদিকে ভদন্ত সারমিত্র মহাথের’র অকাল মৃত্যুর সংবাদ শোনে শোকাহত সর্বস্তরের বৌদ্ধ উপাসক-উপাসিকা, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে অনেকে তাকে দেখার জন্য প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারে রাতেই ছুটে যান।

প্রয়াত ভদন্ত সারমিত্র মহাথের’র মরদেহ ধর্মীয় আচার সম্পাদন পরবর্তী তার অন্তিম সাধনপীঠস্থান প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারে রাখা হয়েছে।

সমাজ সর্দার বাবুল বড়ুয়া ও প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারের সাধারণ সম্পাদক টিটু বড়ুয়া জানান, প্রয়াত ভান্তের পেটিকাবদ্ধ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এই বিষয় নিয়ে আমরা দ্রুত আলোচনায় বসবো। এরপর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।