রামুতে ধানক্ষেতে এ কেমন বর্বরতা!

রামু প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের রামুতে রাতের আঁধারে আগাছা নাশক ছিটিয়ে ধানক্ষেত ধ্বঃস করে দেয়া হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এমন বর্বর ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ২৩ মার্চ রাতে রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাদমরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রামু থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুর রহমান।
লিখিত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে- ২৩ মার্চ রাতে ওই এলাকার আবুল কালাম, ছিদ্দিক আহমদ, আবুল বশর, নুরুল হক, শওকত, মোবারক তার ধানি জমিতে পরিকল্পিতভাবে আগাছা নাশক ছিটিয়ে দেয়। এ ঘটনার ২ দিনের মধ্যেই ৬০ শতক জমির ধানক্ষেত সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

তিনি আরো জানান- অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ২ বছর ধরে তার জমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে আসছিলো। এনিয়ে নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিজ্ঞ আদালতে মামলা (অপর ৬২/২১) দায়ের করেন। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। এ মামলায় বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্তদের এ জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। কিন্তু আদালতে নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা সংগঠিত করেছে। এতে তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রামু থানায় ওসি (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী, রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সালাহ উদ্দিন খবর পেয়ে পুড়ে যাওয়া ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তারা জানান- ধানক্ষেত আগাছা নাশক ছিটিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা দূঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুর রহমান ওই এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে। তিনি আরো জানান- বিজ্ঞ আদালত, ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিবাদীরা তাকে জমিতে চাষাবাদে জোরপূর্বক বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিলো। এমনকি তাদের মারধরও করে। এ নিয়ে তার স্ত্রী বাদি হয়ে একটি সিআর মামলাও করেন। এছাড়া বিবাদীরা একটি এমআর মামলা করলে রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় তার পক্ষে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রদান করে। সবকিছুর পরোয়া না করে বিবাদীরা এখন ধানক্ষেত ধ্বঃস করে দিয়েছে। এতে তার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবুল কালাম আগাছানাশক ছিটিয়ে ধানক্ষেত পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি এ ঘটনাকে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা বলে জানান।