রামুতে লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু :
রামুতে লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টায় রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়নে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আল মাহমুদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার সভাপতিত্বে ও শুভেচ্ছা বক্তৃতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এর সহযোগিতায় ও লিগ্যাল এমপাওয়ার মেন্ট এন্ড জেন্ডার ডাইভারসিটি (এলইজিডি) প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিতকরণ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এ সভা আয়োজন করে, রামুর বিকশিত মানবকল্যাণ সংগঠন। সভায় প্রকল্প পরিচিতি উপস্থাপন করেন, বিকশিত মানবকল্যাণ সংগঠন রামুর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মোস্তফা কামাল।

সভায় বক্তারা বলেন, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় হিজড়া জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিত ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। তাদের জীবন সংগ্রামকে কর্মমুখী একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে কর্মে সক্ষম করে তোলতে হবে। নিজেদের আত্ম-পরিচয় প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্বীকৃতির জন্য বৈষম্য ও নিপীড়ন সহ্য করতে হয় লিঙ্গ বৈচিত্রময় হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষদের। বৈচিত্র্যময় জীবন থেকে হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষদের সমাজের মূল স্রোতধারায় কিভাবে নিয়ে আসা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের কথা শুনেন এবং সামাজিক ও আইনগত বিদ্যমান বৈষম্য সহ তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান বিষয়ক বিশদভাবে আলোচনা করেন।

প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মোস্তফা কামাল বলেন, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার, স্বীকৃতি সহ সামাজিক উন্নয়নে কর্মমূখী করে গড়ে তোলতে কাজ করছে বিকশিত মানবকল্যাণ সংগঠন। তিনি বলেন, বৈচিত্র্যময় এ জনগোষ্ঠীকে আইনের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং আইন প্রণেতা, সরকারি ও সেবা প্রদানকারী সংস্থার সাথে সাম্যতার স্বীকৃতির জন্য আইন ও নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাঞ্ছিত সামাজিক পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষ মালা বলেন, সমাজ এবং পরিবারের অবহেলিত ও অবাঞ্ছিত মানুষ হিসেবে আমাদেরকে নিজ বসতবাড়ি ত্যাগ করতে হয়েছে। আমরা সমাজের একজন মানুষ হিসেবে নিজ কর্মগুণে বসবাস করতে চাই। ভিক্ষাবৃত্তির পেশা ত্যাগ করে, কর্মে সক্ষম সামাজিক মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই আমরা। সরকারিভাবে ও সামাজিকভাবে আমাদেরকে কর্মমূখী হতে সহযোগিতা করুন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও প্রণয় চাকমা বলেন, আবহমানকাল ধরে অবহেলিত, অনাদৃত ও ভাগ্যবিড়ম্বিত লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষরা। সমাজ থেকে তারা একপ্রকার বিচ্ছিন্নই থাকে। তাচ্ছিল্য, উপহাস ও সামাজিক বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ কাজকে ব্যবসা হিসেবে বেছে নেয়। দৈহিক বা জিনগত পুরুষ ও নারীর মধ্যবর্তী জন্মগতভাবে অবস্থানের কারণেই তারা হিজড়া বা লিঙ্গ বৈচিত্রেল মানুষ। পরিবার ও সমাজে অনাদর-অবহেলায় এক সময় গৃহত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর এসব মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এসব মানুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সামাজিকভাবে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডল, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, রামু চৌমুহনী বণিক সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজল বড়ুয়া ও আবছার কামাল, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা বখতেয়ার আহমদ, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু কেন্দ্রীয় কালী বাড়ির পুরোহিত সুবীর ব্রাহ্মণ চৌধুরী বাদল, বিকশিত মানবকল্যাণ সংগঠন রামুর সভাপতি আবুল মনসুর, উপদেষ্টা উজ্জল বড়ুয়া, এনজিও কর্মকর্তা নুরুল কবির, সাংবাদিক আল মাহমুদ ভূট্টো, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষ মালা ও মাহিন প্রমুখ।