ইউক্রেইন যুদ্ধ: রাশিয়ায় টিভিতে খবরের মধ্যেই যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানের সরাসরি সংবাদ চলাকালে একজন নারী যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত হয়েছেন পর্দায়।

বিবিসি জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় প্রচারিত ওই নিউজ শোতে টেলিভিশনের পর্দায় সংবাদ পাঠিকার পেছনে আবির্ভূত হওয়া ওই নারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “যুদ্ধ নয়, যুদ্ধ বন্ধ করুন, প্রপাগান্ডায় বিশ্বাস করবেন না, তারা এখানে আপনার সামনে মিথ্যা বলছেন।”

প্রতিবাদী ওই নারীর নাম মারিনা ওভসিয়ান্নিকোভা, তিনি ওই টেলিভিশন স্টেশনেরই একজন সম্পাদক।

রাশিয়ার টিভি সংবাদকে কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছে ক্রেমলিন, ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে কেবল সরকারি ভাষ্যই প্রচার করা হচ্ছে।

বিবিসি লিখেছে, ওই প্রতিবাদের পর মারিনা ওভসিয়ান্নিকোভাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ প্রচারের সময় তাকে বলতে শোনা যাচ্ছিল- “যুদ্ধকে না বলুন! যুদ্ধ বন্ধ করুন!”, এর পরপরই প্রযোজক সেখান থেকে কাট করে একটি ধারণ করা সংবাদে চলে যান।

মারিনা ওভসিয়ান্নিকোভার প্রতিবাদ টিভি পর্দায় আসার আগে তিনি একটি ভিডিও ধারণ করেন, যেখানে তিনি ইউক্রেইনে চলমান ঘটনাবলীকে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন ক্রেমলিনের প্রচারের পক্ষের কাজ করায় তিনি লজ্জিত।

“আমি লজ্জিত যে আমি টেলিভিশন স্ক্রিনে মিথ্যা বলতে নিজেকে আটকাইনি। লজ্জিত যে রুশদের অসংবেদনশীল প্রাণীতে পরিণত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেছি।”

রাশিয়ার নাগরিকদের এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন তারাই শুধু ‘এই উন্মাদনা’ বন্ধ করতে পারে।

মারিনা ওভসিয়ান্নিকোভার পরিচয় জানাজানি হওয়ার পর তার ফেইসবুক পেইজে ইউক্রেনীয়, রুশ ও ইংরেজিতে অভিনন্দন বার্তা আসতে শুরু করে তার এই পদক্ষেপের জন্য।

বিবিসি লিখেছে, রাশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ক্রেমলিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং বেশিরভার বড় টিভি চ্যানেলে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার বিরল ঘটনা।

ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর একটি নতুন আইন চালু হয়েছে। চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ‘ভুয়া’ খবর প্রচারকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে।

ইউক্রেইনে যুদ্ধকে রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে একটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে দেখাচ্ছে। ইউক্রেইনকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা বলা হচ্ছে, যেদেশে সরকার নব্য-নাৎসীদের নিয়ন্ত্রণে।

যে কয়টি নিরপেক্ষ গণমাধ্যম অবশিষ্ট ছিল, কর্তৃপক্ষের চাপে তার অনেকগুলোর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে মস্কোর রেডিও স্টেশন একো এবং অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল টিভি রেইনও রয়েছে।

অন্য গণমাধ্যমের মধ্যে আছে, নোভায়া গাজেটা সংবাদপত্র, যারা নতুন সেন্সরশিপ আইনের মধ্যে থেকেই পরিস্থিতির ওপর সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করছিল।

রাশিয়ার গণমাধ্যম তদারককারী সংস্থা বিবিসি এবং অন্যান্য বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে মিথ্য তথ্য প্রচারের’ অভিযোগ করেছে।

অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেই রাশিয়ায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে, এরমধ্যে ফেইসবুক ও টুইটারও রয়েছে। রাশিয়ায় জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রামও সোমবার বন্ধ করা হয়েছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ