অ্যালার্জি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
ছোটবেলায় থাকা সব অ্যালার্জির সমস্যা বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে এমনটা ঠিক নয়। অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হলে পরিবার, বন্ধুমহল, পরিচিতজনদের কাছ থেকে অসংখ্য পরামর্শ পাওয়া যায় সেই বিষয়ে। এরমাঝে কিছু পরামর্শের যে কোনো ভিত্তি নেই, পুরোটাই কুসংস্কার তা সচেতন মানুষ চট করেই বুঝে ফেলেন।

তবে কিছু পরামর্শ আবার দ্বিধার সৃষ্টি করে।

অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের ‘অ্যালার্জিস্ট-ইমিউনোলজিস্ট’ ডা. জন ভিলাসিস রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “অ্যালার্জির ওষুধ কোনো জাদুর বড়ি নয় যে খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চুলকানি, র‌্যাশ, হাঁচি থেমে যাবে। অ্যালার্জির জন্য ফার্মেসিতে যে ওষুধগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে সিংহভাগই হলো ‘অ্যান্টিহিসটামিন’, যার কাজ হলো ‘হিসটামিন’য়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা।”

“শরীরের যখন কোনো ‘অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন’ হয় তখন ‘হিসটামিন’ নিঃসৃত হয়। ‘হিসটামিন’য়ের প্রভাবে নাক দিয়ে পানি পড়ে, হাঁচি হয় এবং চুলকানি হয়। তাই ধৈর্য্য ধরতে হবে। আর আগেভাগেই যদি টের পান যে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবে কয়েকদিন আগ থেকেই ওষুধ খাওয়া শুরু করতে হবে।”

চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে যে সঙ্গে অন্য কোনো ওষুধ যোগ করতে হবে কি-না।

বড় হলে সব অ্যালার্জি সেরে যায়
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ আওয়া হসপিটালস অ্যান্ড ক্লিনিক’য়ের ‘ইনটারনাল মেডিসিন’য়ের অধ্যাপক ডা. সুজ্যান ক্যাসেল বলেন, “ছোটবেলায় দুধ, গম, সয়া আর ডিম- এসব খাবারে অ্যালার্জি থাকলে সেগুলো প্রায় ৮০ শতাংশ শিশুরই বয়স বাড়ার পর হারিয়ে যায়। তবে অন্য কোনো খাবারে অ্যালার্জি দেখা দিলে সেই অ্যালার্জি আজীবন থাকবে।”

ক্যাসেল আরও বলেন, “বাদামে যদি কারও অ্যালার্জি থাকে তবে সেটা বয়স বাড়ার সঙ্গে সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের এই অ্যালার্জি বয়সের সঙ্গে শেষ হতে দেখা যায়, আর সেটা কেনো হয় সেই কারণ আমরা আজও জানি না।”

ভিলাসিস বলেন, “ছোটবেলায় কারও যদি ‘অ্যালার্জিক রাইনাইটিস’ থাকে তবে তা সারাজীবন বয়ে নিতে বেড়াতে হবে। এর কারণে চোখ ও নাক চুলকায়, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে পানি পড়ে। একমাত্র ‘অ্যালার্জি শট’ নিয়েই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”

কুকুর, বেড়ালে অ্যালার্জির সমাধান
ভিলাসিস বলেন, “কুকুর, বেড়ালের প্রতি যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের জন্য ‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ কুকুর, বিড়াল নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।”
যেসব ‍কুকুর, বেড়ালের জাতের পশম ছোট কিংবা তা ঝরে কম, সেগুলোকে ‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ নাম দেওয়া হয়।

“তবে সমস্যা হল ঠিক যে উপাদান আপনার অ্যালার্জির কারণ তা শুধু পশমে নয় বরং লালা, গায়ের তেল, মুত্র সবকিছুতেই থাকে। পশম যাদের ছোট তাদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যা সামান্য কমতে পারে, তবে একেবারেই থাকবে না এমনটা সম্ভব নয়,” বলেন ভিলাসিস।

বিড়ালের প্রতি অ্যালার্জিকে পাশ কাটানো কঠিন, কারণ তাদের লালা শুকিয়ে গেলে বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। তাই কুকুর ও বিড়ালে অ্যালার্জি থাকলে সেগুলো না পোষাই ভালো।

গ্লুটেন অ্যালার্জি
ক্যাসেল বলেন, “গ্লুটেন অ্যালার্জি বলে কিছু নেই। তবে গমে আপনার অ্যালার্জি থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যালার্জি দেখা দেয়। শরীরের জন্য ক্ষতিকর উপাদানগুলো থেকে রক্ষাকারী প্রোটিন হল ‘ইমিউনোগ্লোবুলিন ই’। যে উপাদানে আপনার অ্যালার্জি আছে তার সঙ্গে এই প্রোটিন জুড়ে গিয়ে অ্যালার্জি যত উপশম সৃষ্টি করে।”

“এই প্রভাব এক মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে দেখা দিতে পারে। সেসময় মুখ ও গলা ফুলে যায়, চুলকানি হয়, ত্বক লাল হয়ে যায়, চোখ ফুলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বমিও হতে পারে। থাকতে পারে কাশি, হাঁচি, দম আটকে আসতে পারে। রক্তচাপ কমে যেতে পারে। অ্যালার্জির মাত্রা তীব্র হলে জ্ঞান হারাতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও হওয়া সম্ভব।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ