‘আঁধার’ ভেঙে নারীকে ভয় জয়ের আহ্বান

অনলাইন ডেস্কঃ
‘আঁধার’ ভেঙে সমাজের ভয় জয় করে নারীকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান এসেছে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক আলোচনা থেকে।

‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনায় নারীদের নীরবতা ভেঙে অসাম্যকে চ্যালেঞ্জ করার তাগিদ দিয়েছেন অধিকার কর্মীরা।

‘নারী-পুরুষের সমতা, টেকসই আগামীর মূল কথা’ প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাতের প্রথম প্রহরে অনলাইনে মোমবাতি জ্বালিয়ে ‘রাতের আঁধার ভাঙার’ প্রতীকী আয়োজন করেছে ‘আমরাই পারি’ জোট।

প্রতি বছর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ আয়োজন হয়ে আসলেও এ বছর মহামারী পরিস্থিতে অনলাইনে কর্মসূচি নিয়েছে জোটটি।

আমরাই পারি জোটের আলোচনায় বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জয়া মোহন্ত জানান, প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রাবাসে বিকালের পর ছাত্রীরা বের হতে না পারলেও ছাত্রদের সে বাধা নেই।

“বাবা-মাও মেয়েদের রাতে বের হতে দেয় না। তাদের শঙ্কা থাকে যে বিপদ হতে পারে। এর মানে হল নারীকে দুর্বল মনে করা হয়। তার প্রতি হীনমন্য মনোভাব দেখানো হয়।”

নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মতামতকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, “নারী ইচ্ছেমত কিছু করতে পারে না। তার ইচ্ছেকে পিষে ফেলা হয়। স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে দুর্বল মনে করে।

“এসব দূর করতে মনের আঁধার দূর করতে হবে। সমাজ থেকে আঁধার দূর হলেই নারী পৌঁছাবে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে।”

জোটের নির্বাহী কমিটির সদস্য শিপা হাফিজ বলেন, সামাজিক বৈষম্য দূর করতে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

“নারী দিবস ও আন্দোলন সবাইকে সম্পৃক্ত হয়ে করতে হবে। যে পুরুষরা তাতে সম্পৃক্ত হবেন না, আমরা তাদের নারী বিদ্বেষী বলে চিহ্নিত করবো। যে নারীও করবেন না তাদেরকেও সেভাবেই চিহ্নিত করবো। কারণ তারা সম্মানজনক জীবনযাপনে নারীকে সহযোগিতা করছেন না।”

নারীর কাজ নিয়ে অবমাননাকারীদের প্রতিবাদ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বাগেরহাট জেলা আমরাই পারি জোটের ফোকাল রিজিয়া পারভীন বলেন, নারী অধিকার আদায়ের আন্দোলনের শুরুর দিকে মারাত্নকভাবে ধাক্কা খেতে হয়েছে।

“খুব যে পাল্টাতে পেরেছি তা কিন্তু নয়। ঘরে-বাইরে আত্নীয়-অনাত্নীয়দের কাছে নারী এখনো নিগৃহীত হচ্ছে।

“আগে বলত না, ভয়-লজ্জা পেত; সেখানে কিছুটা হলেও পজিটিভ পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রতিবাদ করে, বিচার চায়; সবক্ষেত্রে বিচার হয়তো পায় না, কিন্তু চায়। সে জায়গা তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “নারীরা সংসদের বিরোধীদলের মত, যেখানে পুরুষরা সরকারি দল। বিরোধী দল কথা বললেও গুরুত্ব পায় না, এমন অবস্থা সমাজে রয়েছে গেছে। সেখানে আমরা পরিবর্তন আনতে পারি নি।”

সমান অধিকার পেতে নারীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে জানিয়ে উপজেলা পরিষদের এই নারী ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী থাকার বিষয় ছিল। কিন্তু কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই। সেখানেও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

“নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এখনো আসেনি। সেজন্য নারীকে যোগ্য, কর্মক্ষম করতে হবে। চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। লড়াই ছাড়লে হবে না।”

আমরাই পারি জোটের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফারহানা হাফিজ বলেন, ধর্ষণের শিকার হওয়ার যে ভয় নারীর মধ্যে কাজ করে, তা জয় করতে হবে।

“ভয় পেলাম আর আঘাত আসতে পারে ভেবে জায়গা ছেড়ে দিলাম- এটা না করে নির্ভয়ে মোকাবেলা করতে হবে। নিজের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”

সমাজে নারী-পুরুষের সংঘাতের জায়গা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নিযাতনের যে ভয়ংকর প্রকাশ, মনে হচ্ছে নারী-পুরুষ মুখোমুখি জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে। সেখানে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।”

নারীর বিরুদ্ধে অন্যায়কে অপরাধ গণ্য করা, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা-নিযাতনে জড়িত না হওয়া, নারী নিযাতন বন্ধে অন্যদের অবগত করতে ‘রাতের আঁধার ভাঙার’ শপথ পাঠের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ