৭ মার্চ পালনে নির্দেশনা নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

অনলাইন ডেস্কঃ
সোমবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এদিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়ে থাকলেও একদিন আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। দায়িত্বশীলদের অবহেলায় প্রতিষ্ঠানে দিনটি পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, প্রতি বছর গুরুত্বপূর্ণ দিন ও দিবস পালনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে নির্দেশানা দিলে সে মোতাবেক সব আয়োজন করা হয়ে থাকে। অথচ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা দেখা যায়। কোনো বিশেষ দিন পালনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অথচ একদিন আগে অথবা আগের রাতে নানা ধরনের আয়োজন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। সে কারণে ঠিকভাবে সেসব অনুষ্ঠান পালন করা সম্ভব হয় না।

তারা জানান, আগামীকাল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ সারাদেশে পালন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে পালন করা হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি হয়ে গেছে। বিকেলে বা রাতে যদি নানা আয়োজনের তালিকা তৈরি করে নির্দেশনা দেওয়া হয় তবে তা পালন করা সম্ভব হবে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে দায়সারা করে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিন পালন করে থাকে।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে নির্দেশনা জারি করা উচিত। বিলম্বে বা শেষের দিন কর্মসূচি পালনের আদেশ দেওয়া হলে সব কর্মসূচি ঠিকসময়ে পালন করা সম্ভব হয় না। দেরি করে আদেশ পাওয়ার কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে পালন করতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু ৭ মার্চ মাউশি থেকে নানা ধরনের প্রতিযোগিতাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে দেওয়া হলে চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব ঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয় ও শিক্ষার্থীদের তা অনুশীলন করানো সম্ভব হয়।

জানতে চাইলে মাউশি’র পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) অধ্যাপক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস রোববার দুপুরে জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাঠাতে বিলম্ব করায় আমাদের সেটি জারি করতে দেরি হয়ে যায়। প্রতি বছর এ ধরনের ঘটনা ঘটে, সেখানে আমাদের কিছু করার থাকে না।

তিনি বলেন, যেহেতু এখনও করোনা পরিস্থিতি বিরাজমান তাই এ দিবস পালনে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন হবে কিনা তা মন্ত্রণালয় থেকে জানালে আমাদের সেটি জারি করতে সহজ হয়। যেহেতু ৭ মার্চ পালনে আর সময় নেই সেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অপেক্ষায় না থেকে আগের বছরের মতো এ দিনটি পালনে বিকেলের মধ্যে নির্দেশনা জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্রঃ জাগোনিউজ