পিকআপের চাপায় ছয় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা নজিরবিহীন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় পিকআপচাপায় ছয় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা নজিরবিহীন উল্লেখ করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়ায় স্বামী ও ছয় সন্তান হারিয়ে দিশেহারা মৃণালিনী সুশীল মানুর (৬২) পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সকালে তিনি উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়কপথে তিনি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের হাসিনা পাড়ায় যান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী পিকআপচাপায় নিহত ছয় ভাইয়ের মা-স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। পরে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্ত আট পরিবারের হাতে মোট ৪ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছয় সন্তান হারানো মা মৃণালিনী সুশীল মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা কি ছয় সন্তান হত্যাকাণ্ডের বিচার পাব? আমাদের চাওয়ার কিছুই নাই। জীবিত থাকতে ছয় সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসি চাই।’

জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পিকআপ জব্দ করেছে। পিকআপের মালিক ও চালককে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আশা করছেন, জঘন্যতম এই ঘটনার সুষ্ঠু এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক বলেন, ছয় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং মর্মস্পর্শী। শতচেষ্টা করেও ছয় সন্তানকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। স্বজন হারানোর বেদনা কী জিনিস, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন এবং বোঝেন। সে জন্য তিনি (শেখ হাসিনা) ঘটনার পর থেকে প্রতি মুহূর্তে খবরাখবর রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই তিনি সেখানে ছুটে এসেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জমিসহ বাড়ির ব্যবস্থা করেছে। পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ জাফর আলম, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত পাল, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিভীষণ কান্তি দাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে মালুমঘাট এলাকায় (চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হাসিনা পাড়ার সুরেশ চন্দ্র সুশীলের পাঁচ ছেলে অনুপম সুশীল (৪৬), নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫), চম্পক সুশীল (৩০) ও স্মরণ সুশীলের (২৯) মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রক্তিম সুশীলকে (৩২) ভর্তি করা হয় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। ১৪ দিন পর সেখানে মারা যান রক্তিম সুশীলও। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক ভাই প্লাবন সুশীল (২৫) ও বোন হীরা সুশীল (২৮)।