মালুমঘাট ট্র্যাজেডিঃ কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সমবেদনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চকরিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের করুণ মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ (বিপিসি)। ১১ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল নিহতদের পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হাসিনাপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে যান। পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর নেতৃত্বে উক্ত প্রতিনিধি দল বিকাল ৩টার দিকে সেখানে গিয়ে পৌঁছেন। প্রথমে তারা নিহতদের স্বজনদের সাথে দেখা করে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এসময় পরিষদের পক্ষ থেকে যৎসামান্য অর্থ সহায়তা নিহতদের সহধর্মীনীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে নিহতদের স্বজনদের সাথে সাক্ষাত শেষে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থলের পাশেই নিরাপদ সড়কের দাবীতে তারা কিছুক্ষণ ব্যানার হাতে অবস্থান নেন। এসময় পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণহানির মতো করুণ ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণও আছে। ৮ তারিখ এখানে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল তা অত্যন্ত হুদয় বিদারক ঘটনা। একই দিনে একই সাথে সহোদর পাঁচ ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় আমরা দেশবাসী সকলে গভীরভাবে ব্যাথিত হয়েছি। এই ঘটনা প্রত্যেক মানুষের বিবেকে নাড়া দিয়েছে। আমরা সড়কে এমন প্রাণহানির ঘটনা আর দেখতে চাইনা। আর কারো জীবনে যাতে এমন দিন না আসে এটাই আমাদের কাম্য। আজকে আমরা নিহতদের শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবীতে এখানে এসেছি দাড়িঁয়েছি।

উক্ত পরিদর্শন প্রতিনিধি দলে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভংকর বড়ুয়া, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পটল বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুনিত্য বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক রাজু বড়ুয়া, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক শিপন বড়ুয়া, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আশীষ বড়ুয়া, পরিষদের রামু শাখার সহ-সভাপতি পূর্ণধন বড়ুয়া, লুংক্য রাখাইন, সাধারণ সম্পাদক তুষিত বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু বড়ুয়া, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক উপেল বড়ুয়া, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক জেশন বড়ুয়া, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রুবেল বড়ুয়া, চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলুংহ্রী রাখাইন, সহ-সভাপতি ওয়াংচিং রাখাইন, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ভুলু বড়ুয়া প্রমূখ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় উপজেলার মালুমঘাট বাজারের দেড়শ গজ উত্তরে নার্সারি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

উক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিংভং সগীরশাহ কাটা হাসিনাপাড়া এলাকার মৃত ডা. সুরেশ চন্দ্র সুশীলের ছেলে ডা. অনুপম সুশীল (৪৬) এবং তার তিন ভাই নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫) ও চম্পক সুশীল (৩০)। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান স্মরণ সুশীল (৩২) নামের আরও এক ভাই।

এই দুর্ঘটনায় এক বোন অক্ষত থাকলেও গুরুতর আহত হন অপর দুই ভাই রক্তিম সুশীল, প্লাবন সুশীল এবং তাদের আরেক বোন হীরা সুশীল।