ওমিক্রন ঠেকাতে ফাইজারের নতুন টিকা পরীক্ষামূলক প্রয়োগে

অনলাইন ডেস্কঃ
টিকা মহামারীতে লাগাম দেওয়ার আশার সূচনা ঘটালেও তাতে নৈরাশ্য্ ভর করে ওমিক্রন, এই অবস্থায় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ঠেকাতে নতুন একটি টিকা আনতে যাচ্ছে ফাইজার।

জার্মান জৈব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানিটির উদ্ভাবিত নতুন এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে সিএনএন।

এর আগে যে কয়টি কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবনের পর বিশ্বে এখন প্রয়োগ করা হচ্ছে, তার একটি ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি।

এখন তাদের নতুন টিকাটি কতটা নিরাপদ, মানবদেহে কতটা সহনী, ওমিক্রন সংক্রমণ ঠেকাতে কতটা পারঙ্গম, তা দেখতে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রায় দেড় হাজার জনকে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে।

দুই বছর আগে বিশ্বে নতুন করোনাভাইরাস মহামারী বাঁধিয়ে দেওয়ার পর গত বছরের প্রথম ভাগে আসে এই ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, যাতে আক্রান্তের সঙ্গে মৃত্যু বেড়ে গিয়েছিল।

এরপর ব্যাপক টিকাদানের মধ্যে পরিস্থিতির যখন উন্নতি হচ্ছিল, তখন গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা দেয় করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

এই ভ্যারিয়েন্টই এখন দাপট দেখাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। তাতে আক্রান্তের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত এক মাসে বিশ্বে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, এই হারে বৃদ্ধি মহামারী শুরুর পর আগে কখনও ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞরা যখন জানতে পারেন যে ওমিক্রন টিকার সুরক্ষাও ভেদ করতে পারছে, তখন তা বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দেয়।

ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি আগের টিকার সুরক্ষাও ওমিক্রন আংশিক ভেদ করতে পারে বলে জানার পর তারা নতুন টিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়, যেটা সুনির্দিষ্টভাবে ওমিক্রনকে ঠেকিয়ে দিতে পারবে।

নতুন টিকাটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে যেমন দেওয়া হচ্ছে, তেমনি দেওয়া হচ্ছে বুস্টার ডোজ হিসেবেও।

সিএনএন জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক অংশগ্রহণকারীদের তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া নতুন টিকাটি।

৯০ থেকে ১৮০ দিন আগে যারা ফাইজারের এখনকার টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন, তাদের বুস্টার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে নতুন টিকা।

৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে যারা ফাইজারের এখনকার টিকার তিন ডোজ নিয়েছেন, তাদের কাউকে দেওয়া হচ্ছে নতুন টিকা, আর কাউকে পুরনো টিকা।

আর যারা এখন পর্যন্ত কোনো কোভিড টিকাই নেননি, তাদের দেওয়া হচ্ছে ওমিক্রন ঠেকানোর নতুন টিকার তিন ডোজ। প্রতিটি ডোজে ওষুধ থাকছে ৩০ মাইক্রোগ্রাম।

ফাইজারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং টিকা গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন জেনসেন বলেন, “আমাদের গবেষণা এবং মহামারীর বর্তমান অবস্থার তথ্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে বুস্টার ডোজ ওমিক্রনে আক্রান্তদেরও গুরুতর অসুস্থতা থেকে পরিত্রাণ দিচ্ছে। আমরা মনে করছি, এই সুরক্ষাটা আরও জোরদার করা দরকার।”

ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলবার্ট বোর্লা গত মাসে বলেছিলেন যে যদি ওমিক্রন ঠেকানোর আলাদা টিকা প্রয়োজন হয়, তবে মার্চের মধ্যে তা আসবে।

তবে ফাইজারের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছেন, সেই টিকার উৎপাদন ইতোমধ্যে শুরু করেছেন তারা।

নতুন টিকার কারণে ফাইজারের উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ওই মুখপাত্র বলেন, ২০২২ সালে ফাইজার-বায়োএনটেকের ৪০০ কোটি ডোজ কোভিড টিকা (আগেরটি) উৎপাদনের যে ঘোষণা রয়েছে, তা ব্যাহত হচ্ছে না।

ফাইজার-বায়েএনটেক বলছে, এখন বাজারে তাদের যে টিকা রয়েছে, বুস্টার ডোজ হিসেবে তা নিলে সেটা ওমিক্রনে আক্রান্তদেরও হাসপাতালে যাওয়ার ঠেকাতে গুরুতর অসুস্থ হওয়া ঠেকিয়ে দেবে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ