দ্রুত হাঁটবেন নাকি অনেক দূর হাঁটবেন

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
দ্রুত হাটা আর আরাম করে হাঁটা দুটোরই নিজস্ব উপকারিতা আছে। প্রতিদিন হাঁটাহাঁটির অভ্যাস যাদের আছে তাদের হাঁটার সময়কাল হয় বিভিন্ন। কখনও হাতে অঢেল সময়, আয়েসি ভঙ্গিতে অনেকটা পথ হাঁটা হয়। কোনোদিন হাতে সময় থাকে না, ফলে দ্রুত হেঁটে কোটা পূরণ করতে হয়।

যতক্ষণ বা যতদূরই হাঁটেন না কেনো, উপকার আছেই এবং সেজন্য নিজেকে বাহবা দিন।

তবে দ্রুত হাঁটা আর অনেকটা পথ হাঁটার মধ্যে কোনটা বেশি উপকারী সেটা জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন’য়ে অবস্থিত ‘ইউটি হেল্থ সাইন্ট সেন্টার অ্যাট হিউস্টন’য়ের অন্তর্ভুক্ত ম্যাকগভার্ন মেডিকাল স্কুল’য়ের ‘স্পোর্টস কার্ডিওলজিস্ট’ জন হিগিন্স বলেন, ‘দ্রুত হাটা আর আরাম করে হাঁটা দুটোই নিজস্ব কিছু উপকারিতা আছে।”

অল্প দূরত্বে দ্রুত হাঁটা

ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন হিগিন্স বলেন, “ধরে নেওয়া যাক, আপনার কাঁধে নানান দায়িত্ব। সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে হবে, বাজার করতে হবে, অফিসের কাজ শেষ করতে হবে ইত্যাদি। এরই মাঝে একফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটির সময় বের করে নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত গতিতে হেঁটে অল্প সময়ে অনেকটা পথ হাঁটলে সময়ের সদ্ব্যবহার হবে।”

১৫ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার মাধ্যমে ৩০ মিনিট আরাম করে হাঁটার সমান ব্যায়াম হবে। আবার এই হাঁটা ‘অ্যারোবিক এক্সারসাইজ’ হিসেবেও কাজ করবে।

ফলে হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হবে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে, জ্ঞানীয় ক্ষমতা বাড়বে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে, মেজাজ ভালো থাকবে।

আরাম করে হাঁটা

যদি হাতে সময় থাকে তবে ধীর গতিতে লম্বা সময় হাঁটা বেশি উপকারী হবে।

ডা. হিগিন্স বলেন, “ধীরে হাঁটলে সময় বেশি লাগলেও জোরে হাঁটার সম-পরিমাণ উপকারই মিলবে। সঙ্গে কমবে আঘাত পাওয়া ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা।”

আবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে হাঁটার ক্ষমতা বাড়বে, ফলে ভবিষ্যতে আরও লম্বা সময় হাঁটার জোর পাবেন।

কতদূর হাঁটা হল সেই পরিমাণটা দেখলে মানসিক তৃপ্তি পাবেন, যা আরও হাঁটার অনুপ্রেরণা যোগাবে। মনে রাখতে হবে, শারীরিক উপকারের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও জরুরি।

বিষয় হল

ডা. হিগিন্স বলেন, “সবচাইতে ভালো হবে গতি আর সময়- দুটোর স্বাস্থ্যকর মিশ্রণ। সপ্তাহের একদিন শরীরের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন, ভারী ব্যায়াম করুন। বাকি দিনগুলো হালকা ব্যায়াম।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ