বিধিমালা চূড়ান্ত: স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে সিটিতে ৩০০, উপজেলায় ২৫০ ভোটারের স্বাক্ষর লাগবে

দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ৩০০ ভোটার এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য ২৫০ জন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। খবর বাংলাট্রিবিউনের।

এ সংক্রান্ত পৃথক চারটি বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আগামী সপ্তাহে আইন মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিংয়ের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যানও দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে। যার মধ্যে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দলীয়ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় মেয়াদ পূর্ণ হওয়া দু’টি সিটি করপোরেশন এবং কিছু উপজেলা পরিষদের মেয়াদপূর্ণ ও বেশ কিছু উপজেলায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন এই দুই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন গত সপ্তাহেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে। বুধবার চূড়ান্ত করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালা। বিধিগুলো গেজেট আকারে প্রকাশের আগে তা ভেটিংয়ের জন্য ‌আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিধান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে এ চারটি বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বিধিমালা সংশ্লিষ্ট আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সাংর্ঘষিক কিনা, তা যাচাই করে দেখে অনাপত্তি জানাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিশন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ দু’টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ও আচরণবিধির প্রয়োজনীয় সংশোধনী খসড়া করেছে। এগুলো আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে ভেটিংয়ের জন্য।’

কবে নাগাদ বিধিমালা জারি হবে, জানতে চাইলে সচিব বলেন, করে হবে, ‘এটা নির্ভর করছে মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের ওপর। যত তাড়াতাড়ি মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হবে, আমরা তত তাড়াতাড়ি এটা করে ফেলতে পারব।’ তবে, নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে কিছুটা সময় থাকায় খুব একটা তাড়াহুড়া করছেন না বলে জানান তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে সিটিতে ৩০০, উপজেলায় ২৫০ ভোটারের স্বাক্ষর

দলীয়ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের মতো সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ভোটারদের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৩০০ ভোটার এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য ২৫০ জন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। এর আগে পৌরসভার মেয়র পদে ১০০ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান করা হয়েছিল। এছাড়া আরপিও অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। অবশ্য দলীয় ভিত্তিতে হলেও নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটারদের স্বাক্ষর জমার কোনও বিধান রাখেনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিলের শর্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভার মতো আমরা সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটারদের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।’

উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানও দলীয়

স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কেবল শীর্ষপদটি দলীয় এবং অন্য পদগুলো নির্দলীয় হলেও আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের তিনটি পদই দলীয়ভিত্তিতে হবে। উপজেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান ও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যানের পদ রয়েছে। যার মধ্যে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। ফলে চেয়ারম্যান পদের মতো ভাইস চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ভোটারদের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের মতো এ পদেও আড়াইশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

পৌরসভার আদলে আচরণ বিধিমালা

পৌরসভার নির্বাচনের আচরণবিধি অনুসরণ করে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদেও প্রায় একই ধরনের নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় মন্ত্রী-এমপিসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নিতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ব্যক্তি বলতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনও ব্যক্তি, চিফ হুইপ ও হুইপ, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বোঝানো হয়েছে। আর পথসভা কিংবা ঘরোয়া সভা করতে চাইলে সব প্রার্থীকে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। সভার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা আগে এ অনুমতির জন্য আবেদন জানাতে হবে। একইসঙ্গে কেউ সভা পণ্ড কিংবা বাধা দিলেও প্রশাসনের শরণাপন্ন হতে হবে।