রামুতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষ্যে বিশাল জশনে জুলুস

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
রামুতে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বুধবার সকালে বিশাল ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের রেলী বের করা হয়।

আনজুমান-এ নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া বাংলাদেশ কক্সবাজার ও রামু উপজেলা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা) উপলক্ষে আয়োজিত এ রেলী রামু উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর হয়। পরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রামু বাইপাস হয়ে রামু হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন মাসুমিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা মাঠে এসে সমাপ্ত হয়।

পরে সেখানে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং রাসুল (সা:) এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আজিমুশশান জশনে জুলুস আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কক্সবাজার জেলা সচিব ও আনজুমান-এ নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার সভাপতি ওস্তাজুল ওলামা হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়্যদ মুহাম্মদ উল্লাহ নকশবন্দীর ছদারতে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আনজুমান-এ নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া বাংলাদেশ রামু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদ রামুর চেয়ারম্যান মাস্টার ছালামত উল্লাহর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আনজুমান-এ নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন সানী।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শামসুল আলম মণ্ডল,রাজারকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান,রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো।

মাহফিলে বক্তারা বলেন, সমগ্র পৃথিবী যখন অমাবস্যার কাল রাত্রিতে তমসাচ্ছন্ন তখন পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকার ছিল ব্যক্তি সর্বস্ব। অন্যায় অত্যাচার নির্যাতনে সমগ্র আরব বিশ্ব পুরো অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।হত্যা,লুণ্ঠন, নারী নির্যাতন ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।মদ,জুয়া,বেহায়াপনা ছিল নিত্য দিনের সঙ্গী। মজলুমের আর্তচিৎকারে যখন পৃথিবীর আকাশ যখন ভারী হয়ে উঠেছিল তখন আরবের বুকে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়ালে পৃথিবীতে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির কাণ্ডারি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে।তার আগমনে মজলুম অসহায় ফিরে পেল তার নায্য অধিকার।মুলত সাম্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য রাসুল (সা) এর শুভাগমন।

মহানবীর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি আবদুর রশিদ হক্কানী নকশবন্দী,মাওলানা রেজাউল করিম,মাওলানা শোয়াইব উল্লাহ,মাওলানা দানেসুল আলম প্রমুখ।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু বকর, মাওলানা জামাল উদ্দিন, মাওলানা আবদুস সালাম,হাজী নুরুল ইসলাম,আবদুল আজিজ, আজিজুল ইসলাম, নুরুল আলম,মোহাম্মদ ইসলাম, শামসুল আলম, এস এম ছফিউল্লাহ মুনির,হাফেজ তারেকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আহসানুল হক,মোহাম্মদ ইমরান,খাজা বাকিবিল্লাহ, মাওলানা তারেকুল ইসলাম,মাওলানা রমিজ আহমদ,মাওলানা নুরুল ইসলাম,মাওলানা মিজানুল্লাহ,মাওলানা জাকের,মাওলানা আলম,মাওলানা শাহ আলম,হাফেজ মমতাজ, আবদুল কাদের,মাওলানা মোজাম্মেল,তৈয়্যব , ইয়াছিন,মাহের ফয়সাল,আবদুল্লাহ, আতিকসহ আনজুমানে নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া বাংলাদেশ কক্সবাজার ও রামু উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

জুলুসে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রামু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট,বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা,ছাত্রসেনা,হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদ,রামু উপজেলা,গাউসিয়া কমিটি,বিভিন্ন মাদরাসা,মসজিদের খতিব ও ইমামবৃন্দ ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিগণ জুলুসে অংশগ্রহণ করে। মিলাদ, কিয়াম, মুনাজাত ও তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে মাহফিল সমাপ্ত হয়।