শুভ প্রবারণা আজ

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুঃ
আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস ব্যাপী বৌদ্ধরা বর্ষাবাস হিসেবে পালন করে থাকেন। তিন মাসের বর্ষাবাস পালনের পরিসমাপ্তি ঘটে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের মধ্য দিয়ে। আশ্বিনী পূর্ণিমার বহুল প্রচারিত ও পরিচিত নামই হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা।

আভিধানিক অর্থে প্রবারণার অর্থ হল- বরণ করা আর বারণ করা। অর্থাৎ সকল প্রকার অকুশল বা পাপকর্ম বর্জন বা বারণ করে কুশল কর্ম বা পূণ্যকর্ম সম্পাদন বা বরণ করার শিক্ষা প্রবারণা দিয়ে থাকে।

বিশদ অর্থে প্রবারণা মানে- ভুল ত্রুটির নির্দেশ। আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ ও ধ্যান শিক্ষা সমাপ্তি। সকল প্রকার ভেদাভেদ গ্লানি ভুলে গিয়ে কলুষমুক্ত হওয়ার জন্য ভিক্ষুসংঘ পবিত্র সীমা ঘরে সম্মিলিত হয়ে একে অপরের নিকট দোষ স্বীকার করেন। প্রবারণা উদযাপন মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি বিনয়কর্ম। একইসাথে সাধারণ গৃহি উপাসক-উপাসিকারা প্রবারণার দিন তিন মাসের বর্ষাবাসের শেষ উপোসথ গ্রহণ করে থাকেন।

উক্ত পুণ্যময় পূর্ণিমা তিথিতে তথাগত গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে তিন মাস অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। এই দিনেই তিনি মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের জন্য ভিক্ষুসংঘকে নির্দেশ দেন।

বিশ্বের অন্যান্য বৌদ্ধদের মতো বাংলাদেশী বৌদ্ধরাও ঘটা করে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন। বিহারে বিহারে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের প্রাতঃরাশ, প্রভাতফেরি, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, অষ্টশীল গ্রহণ, আলোচনা সভার আয়োজন, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা, আলোকসজ্জা, ফানুস উত্তোলনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে থাকেন।

উল্লেখ্য, প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এক মাস ব্যাপী বৌদ্ধরা শুভ কঠিন চীবর দান উদযাপন করেন।