স্বাভাবিক পাঠদান শুরু হলে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস

শিক্ষা ডেস্কঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক নিয়মে পাঠদান শুরু হলে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের বিদ্যালয়ে আনা হবে। এদের নির্ধারিত কোনো বই নেই, আপাতত বাড়ি বসে খোলার ছলে পড়ালেখা করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি এ কথা জানান।

মহাপরিচালক জাগো নিউজকে বলেন, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস করানো হলেও অন্যদের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) একদিন করে ক্লাস নেওয়া হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শিখন জ্ঞান অর্জন করতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়ানো হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বছর শেষে নেওয়া হবে সাময়িক পরীক্ষা।

তিনি আরও বলেন, করোনার ঝুঁকি এড়াতে আপাতত আমরা প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের বিদ্যালয়ে আনতে চাই না। যেহেতু তারা অনেক ছোট তাই সংক্রামণ আরও কমে এলে আমরা স্বাভাবিক নিয়মে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান শুরু করে দেব। তখন প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন স্কুলে আসতে বলা হবে। যেহেতু এ স্তরের শিশুদের নির্ধারিত কোনো বই নেই, তাই তাদের কোনো পরীক্ষাও নেওয়া হয় না। ছবি আঁকা, আর বর্ণ চেনার মাধ্যমে তাদের ক্লাস নেওয়া হয়। বাসায় থেকে তারা তা করতে পারবে।

১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গত শনিবারও দেশের বিভিন্ন জেলার এক হাজার শিক্ষকের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। সবার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সব থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তার অধীনে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও ছবি তুলে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে। সমস্যা পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক বছর মেয়াদি প্রাক–প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। এর পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে প্লে গ্রুপ, নার্সারি ও কেজি নামে আলাদা প্রাক–প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

এর আগে রোববার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব পর্যায়ের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান শুরু হবে। তবে শুরুতে কেবল এ বছরের এবং আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস হবে। বাকি শ্রেণিগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারের সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আছে। এরপর আর ছুটি বাড়ছে না।

সূত্রঃ জাগোনিউজ