আমাদের রামু কে একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদানকালে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার: ‘বাচঁতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে সজাগ থাকতে হবে’

গিয়াস উদ্দিন ভুলু , টেকনাফ:
আমাদের রামু’র সাথে একান্ত আলাপচারিতায় সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নাশকতা, ও টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনকারি বেড়ে যাওয়া, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ এই স্বাধীন দেশে কিভাবে আইনের সু-শাসন ফিরিয়ে আনতে হয় সে সমস্ত বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিরোধ ও দমন করতে কি কি করা প্রযোজন, এবং আগামী ভবিষৎ প্রজন্মকে বাচাঁতে কি ভুমিকা রাখতে হবে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আমাদের রামু’র এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন।

২২ আগস্ট সোমবার দুপুর ১টায় টেকনাফ শহীদ আলী উল্লাহ শপিং কমপ্লেক্সের হলরুমে একান্ত সাক্ষাৎকারে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে জনসচেতনতা মূলক কথা বলেন দেশের প্রবীণ এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান আইনি শাসন অবস্থা খুবই দুর্বল তাই যে কোন অপরাধী সহজে দুর্বল আইনের কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই এই আইনি শাসনকে আরো সু-শাসনে প্রতিষ্টিত করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তার পাশাপাশি আমরা দীর্ঘ দিন ধরে এই আইনের সু-শাসন প্রতিষ্টা করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। হয়তো কোন একদিন এই স্বাধীন দেশের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আমরা এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবো।

বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তেমন ভাল নয়। এর কারণ হচ্ছে এই স্বাধীন দেশকে জঙ্গিবাদ রাষ্ট বানাতে দেশী-বিদেশী কিছু অসাধু ব্যক্তিরা চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য করছে বিদেশী হত্যা, সাধারণ মানুষের উপর বোমা নিক্ষেপ সহ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম। তাই এই স্বাধীন দেশের মানুষকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হাত থেকে বাচাঁতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে সজাগ থাকতে হবে।

অপরদিকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার প্রতিরোধ, যুব সমাজকে মাদক সেবন থেকে রক্ষা করে ও আগামী প্রজন্মকে কিভাবে মাদককের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করা যাবে সেই বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার শিক্ষাবিদ, সুশীল-সমাজ ও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা সৎ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসলে মাদক পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এবং দিন দিন কমে যাবে মাদক আসক্তের হার।

তার পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কর্মীদের সাথে নিয়ে এবং হাঙ্গর প্রজেক্টের পরিচালনায় শত শত নারী-পুরুষ কর্মীদের সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ করলে কি শাস্তি পেতে হয়, এবং এই এলাকার নির্যাতিত নারীদের সহযোগিতা করার জন্য কাজ করে যেতে হবে।

দেশের প্রতিটি এলাকায় নির্যাতিত, নিপিড়িত ও অবহেলিত নারীদের সহযোগিতা করতে গঠন করা হয়েছে (বিকশিত নারীদের এক বিশাল সংগঠন) এই সংগঠনের নারী-পুরুষরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে এলাকার নির্যাতিত নারীদের পাশে।