ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়তে আয়ের উৎস জানাতে হবে: নীতিমালা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্কঃ
ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান তৈরি করতে হলে স্থানীয় সরকারের অনুমতি নিতে হবে, উদ্যোক্তার আয়ের উৎসও জানাতে হবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এমন বিধান রেখে একটি নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে নীতিমালা তৈরির জন্য ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘প্রতিযোগিতামূলকভাবে’ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান/শ্মশান স্থাপন করা যাবে না। এসব স্থাপনা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমতি গ্রহণ, খাসজমিতে এসব স্থাপনা তৈরি না করা এবং প্রস্তাবিত ইউনিয়ন পরিষদের মাস্টার প্লান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদকে জানাতে হবে।

কমিটির সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে একটি কমিটি করে দিতে বলা হয়েছে। কমিটি নীতিমালা চূড়ান্ত করবে। নীতিমালা করার আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে বলা হয়েছে।”

কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ করবে। তার এই প্রস্তাবনাটি নীতিমালা আকারে সংসিদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করবে। তখন সংসদীয় কমিটি বিষয়টি চূড়ান্ত করে সুপারিশ করবে।”

কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, শাহে আলম, ছানোয়ার হোসেন ও আব্দুস সালাম মূর্শেদী অংশ নেন।

গত ২৫ মার্চ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং কবরস্থান/শ্মশান স্থাপন সরকারের অনুমোদন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাস্টার প্লান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িঘর নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানোর সুপারিশ করে।

ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়, একটি কমিটি করে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পরের বৈঠকে দিতে হবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাস্টার প্লান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর তৈরি করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে।

প্রস্তাবে যা আছে

গত ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের আলোকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং কবরস্থান স্থাপনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি প্রস্তাব তৈরি করে।

>> ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলের কাছে আবেদন করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাকা/স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর তৈরি করা প্লান ও ডিজাইন আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যান সেটা যৌক্তিক মনে করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানের। ওই আবেদন উপজেলা সমন্বয় সভায় অনুমোদন দেওয়া হবে। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

>> ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান নির্মাণে পৃথক কমিটি থাকবে।

>> উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপদেষ্টা, নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতিসহ আট জন, পৌরসভার ক্ষেত্রে মেয়র সভাপতিসহ ১০ জন সদস্য, সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর সভাপতিসহ ৭ জন সদস্য থাকবে।

>> যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি/খাস জমিতে এবং পরিত্যক্ত/অর্পিত সম্পত্তিতে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/অন্যান্য স্থাপনা ও কবরস্থান/শ্মশান নির্মাণ করা যাবে না। অনুমোদিত ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা হলে তা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি নির্মাতাকে জবর দখলকারি হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্তকরণের বিষয়টি বিবেচনা করে এ ধরনের স্থাপনা রাস্তা থেকে যৌক্তিক দূরত্বে নির্মাণ করতে হবে।

>> ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান নির্মাণের জন্য কোনো জমি ওয়াকফ, দান, কেনা বা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে বরাদ্দ পেলে সেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান নির্মাণ করা যাবে। তবে আদালতে মামলা চলমান থাকলে নির্মাণ করা যাবে না।

>> সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব জমিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান নির্মাণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।

>> ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার বা যৌক্তিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

>> ঈদগাহ্‌ উন্মুক্ত স্থানে থাকবে। বছরের অন্য সময়ে ঈদগাহগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে।

>> প্রতিযোগিতামূলকভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান স্থাপন করা যাবে না। এলাকার জনসংখ্যা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

>> ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান/শ্মশান নির্মাণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আয়ের উৎস জানাতে হবে এবং তিনি আয়কর দেন কি না, তা বিবেচনায় আনতে হবে।

>> মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৬’ যথাযথ অনুসরণ করতে হবে।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদীয় কমিটি প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণে একটি করে কবরস্থান স্থাপনের জন্য নীতিমালা তৈরির সুপারিশ করে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ