কোভিড: দেশে মৃত্যু ছাড়াল ২৫ হাজার

অনলাইন ডেস্কঃ
এক দিনে আরও ১৪৫ জনের মৃত্যুতে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের মোট সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেল।

গত ১৫ অগাস্ট দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ২২ হাজারের দুঃখজনক মাইলফলক পেরিয়ে গিয়েছিল। পাঁচ দিনে মৃতের তালিকায় যুক্ত হল আরও এক হাজার নাম।

অবশ্য সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসার ধারায়, ৩ জুলাইয়ের পর শুক্রবারই প্রথম দেড়শর নিচে নামল দৈনিক মৃত্যু; আর দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও ২২ জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মত ছয় হাজারের নিচে নামল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ হাজার বেশি নমুনা পরীক্ষা করে দেশে ৫ হাজার ৯৯৩ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০৩ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হল; আর আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হল মোট ২৫ হাজার ২৩ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার আগের দিনের মতই সাড়ে ১৭ শতাংশের সামান্য বেশি। জুলাই মাসের বেশিরভাগ সময় এই হার ৩০ শতাংশের আশেপাশে ছিল।

আগের দিন বৃহস্পতিবার সারা দেশে ৬ হাজার ৫৬৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, মৃত্যু হয় ১৫৯ জনের। সে হিসেবে এক দিনে শনাক্ত রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে।

গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ হাজার ৪৪৪ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে যা দিনের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। আগের দিনও এ বিভাগে ৩ হাজার ৪১৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

যে ১৪৫ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৫৭ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের। চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি হিসেবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ১০ হাজার ৫৭৪ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৫ জন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে গত জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে ১৪ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৩ অগাস্ট। তার আগে ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার তা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেল। এর মধ্যে ৫ অগাস্ট ও ১০ অগাস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারীর মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৪৪ লাখ ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২১ কোটি ৭৩ হাজারের বেশি রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে সারা দেশে মোট ৩৪ হাজার ৮৯২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৬টি নমুনা।

নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় দৈনিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত এক দিনে ঢাকা জেলায় দেশের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩২১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জে ২১৬ জন, নরসিংদীতে ২০১ জন, মুন্সীগঞ্জে ১৬০ জন এবং মাদারীপুরে ১১৭ জন এবং গাজীপুরে ১০৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৩০১ জন, কক্সবাজারে ১১৪ জন, নোয়াখালীতে ১২৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৬৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

অন্য বিভাগগুলোর বিভিন্ন জেলার মধ্যে পাবনায় ১৩৬ জন, খুলনায় ১২৭ জন, ময়মনসিংহে ১১০ জন এবং সিলেটে ১৯৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে গত এক দিনে।

ঢাকা বিভাগে গত এক দিনে যে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের ২০ জনই ছিলেন ঢাকা জেলার। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা যাওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ১০ জন চট্টগ্রাম জেলার এবং ১২ জন কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ জন, খুলনা বিভাগে ১৫ জন, রংপুর বিভাগে ৭ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে গত এক দিনে।

মৃতদের মধ্যে ৭৭ জন ছিল পুরুষ, ৬৮ জন নারী। ১০৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ৩০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৬ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মৃত ১৪৫ জনের মধ্যে ৯৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।

সূত্রঃ বিডিনিউজ