রামুতে বৃক্ষরোপন অভিযানে সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি : প্রজন্মকে সুন্দর পরিবেশ দিতে, বৃক্ষরোপন করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামুঃ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই, সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সাথে বৃক্ষরোপণ জড়িয়ে আছে। দিনযাপনে আমরা সম্পূর্ণরূপে বৃক্ষের ওপর নির্ভরশীল। সবুজ বৃক্ষ আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের প্রজন্মকে একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে দিতেই, আমাদের পরিবেশকে সুন্দর করতে হবে। পরিবেশকে সুন্দর করতেই বৃক্ষরোপন করতে হবে। আমাদের প্রজন্মকে সুন্দর পরিবেশ দিতে, বেশী করে বৃক্ষরোপন করুন।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে রামুতে ‘বনায়ন’ এর বৃক্ষরোপন অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি রামুর ওসমান সরওয়ার এভিনিউর পাশে ইসলামী ব্যাংক চত্ত্বরে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে রামুতে বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচীর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিএটি বাংলাদেশ সড়কের পাশে বৃক্ষরোপনের পাশাপাশি বিনামূল্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করে।

রামুতে বৃক্ষরোপন অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএটি বাংলাদেশ এর নাইক্ষ্যংছড়ি লীপ এরিয়া অফিসার রফিকুল ইসলাম, রামু উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি কিশোর কুমার বৈদ্য ময়না, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়–য়া, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক প্রমুখ।

‘মুজিব বর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি’ এ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন অভিযানের অংশ হিসেবে রামুতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী শুরু করে বিএটি বাংলাদেশ ‘বনায়ন’ প্রকল্প। এ কর্মসূচীর আওতায় রামু উপজেলার চার কিলোমিটার মহাসড়কে তিন হাজার কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করবে বিএটি বাংলাদেশ।

কক্সবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল সড়ক বনায়নের মাধ্যমে রামুকে সৌন্দর্য্যময় করে গড়ে তোলতে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার তেচ্ছিপুল থেকে ফুটবল চত্ত্বর হয়ে উত্তর বাইপাস এবং ফুটবল চত্ত্বর থেকে রামু চৌমুহনী (ওসমান সরওয়ার এভিনিউ) পর্যন্ত কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করতে, বিএটি বাংলাদেশকে আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপনের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। রামুতে বিএটি বাংলাদেশ এর সড়ক বনায়ন বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করবে।

বিএটি বাংলাদেশ এর নাইক্ষ্যংছড়ি লীপ এরিয়া অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিএটি বাংলাদেশ ‘বনায়ন’ কর্মসূচী পালন করছে। গত ৪১ বছর ধরে পরিবেশর ভারসাম্য রক্ষায় বিএটি বাংলাদেশ সফলভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন অভিযানে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, এ মুজিব বর্ষে বিএটি বাংলাদেশ ‘বনায়ন’ প্রকল্পের আওতায় রামু, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দুই লাখ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পঞ্চাশ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। পাহাড়ি ও টিলাশ্রেণীর পরিত্যাক্ত ভূমি এবং সড়কের পাশে এ বৃক্ষরোপন অভিযান পরিচালিত হয়। এ ছাড়াও এ বছরে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ গাছের চারা। এর মধ্যে রয়েছে, বহেরা, হরিতকী, নিম, অর্জুন, আনার, কমলা, জলপাই, বেল, কদবেল, লেবু, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, হিজল, জারুল, মেহগনি, গামারি, গর্জন, সনালু, ঝাউ, শীলকড়ই, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, একাশিয়াম, দেবকাঞ্চন ও তাল।