হেফাজতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী

অনলাইন ডেস্কঃ
হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরীর মৃত্যুতে সংগঠনের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে ভারপ্রাপ্ত আমির ঘোষণা করা হয়েছে।

মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী প্রয়াত আমির জুনাইদ বাবুনগরীর আপন মামা। ভাগ্নের দাফন হওয়ার আগেই তার কাঁধে হেফাজতের ভার দেওয়া হল।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস নদভী বৃহস্পতিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাবুবনগরী হুজুরের মৃত্যুর পর হাটহাজারী মাদ্রাসায় আসা উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেন এবং অন্যদের সাথে টেলিফোনে আলাপ করে নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে মনোনীত করেন।”

৬৮ বছর বয়সী জুনাইদ বাবুনগরী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার তাকে চট্টগ্রাম শহরের সেন্টার ফর স্পেশালাইজড কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ (সিএসসিআর) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বেলা পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জুনাইদ বাবুনগরী ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রভূমি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস এবং শিক্ষা পরিচালক।

রাত ১১টার দিকে ওই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে তার জানাজা হয়। মামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীই তাতে ইমামতি করেন।

জানাজার মাইক থেকেই হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী নাম ঘোষণা করা হয় বলে ইদ্রিস নদভী জানান।

তবে হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মোহাদ্দেস মাওলানা আশরাফ নিজামপুরী বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত নয়, মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে পূর্ণাঙ্গ আমিরই করা হয়েছে।

এদিকে প্রয়াত হেফাজত আমির জুনাইদ বাবুনগরীর দাফন কোথায় হবে তা নিয়ে হেফাজত নেতৃবৃন্দের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছিল। দুপুরে মৃত্যুর পর হেফাজত নেতারা জানিয়েছিলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসাতেই তার দাফন হবে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফটিকছড়ির বাবুনগরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার আগ্রহ দেখান।

একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদল শেষে রাত ১১টার পর হাটহাজারী মাদ্রাসায় জুনাইদ বাবুনগরীর জানাজা হয়। তখনও দাফন নিয়ে হেফাজত নেতৃবৃন্দ একমত হতে পারছিলেন না।

হেফাজতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাবুনগরী হুজুরের মামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী চেয়েছিলেন দাফন ফটিকছড়িতে হোক। কিন্তু অপর একটি পক্ষ হাটহাজারী মাদ্রাসায় দাফনের পক্ষে ছিলেন।”

শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে মাদ্রাসায় প্রয়াত মহাপরিচালক আহমদ শফীর কবরের পাশেই বাবুনগরীকে দাফন করা হয় বলে মাদ্রাসার সিনিয়র মোহাদ্দিস আশরাফ নিজামপুরী জানান।

১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামে জুনাইদ বাবুনগরীর জন্ম। সেখানেই তার লেখাপড়া এবং মাদ্রাসায় শিক্ষকতার শুরু হয়েছিল।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাটহাজারি মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের মহাপরিচালক এবং হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সংগঠনের নেতৃত্বে এসেছিলেন জুনাইদ বাবুনগরী।

তার মামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপলোর নাজিরহাট আল জামিয়া আল আরাবিয়া নছিরুল ইসলাম মাদ্রাসার শুরা সদস্য ও ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদ্রাসার মুহতামিম। শাহ আহমদ শফীর সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ছিলেন তিনি।

কওমি মাদ্রাসার সনদের সরকারি স্বীকৃতি এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধে দুই বছর আগে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতের নায়েবে আমিরের পদ ছেড়েছিলেন বলে শফীপন্থিদের দাবি। তবে তার সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি বলে বাবুনগরীর অনুসারীদের ভাষ্য।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে শফীর মৃত্যুর পর নভেম্বরে হওয়া সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুহিবুল্লাহ। সেই সম্মেলনে তার ভাগ্নে জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির ঘোষণা করা হয়। আর মুহিবুল্লাহ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ