শতভাগ শিক্ষক টিকার আওতায় আসবে শিগগিরই: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

শনিবার এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ- ইরাবের এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই সব শিক্ষক টিকার আওতায় আসবে বলে তিনি আশা করছেন।

দীপু মনি জানান, সরকারি পর্যায়ের ‘শতভাগ শিক্ষকই’ টিকা নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ৬৩ হাজার ২২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪২৬জন।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষক টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের মধ্যে টিকা নিয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি।

দীপু মনি বলেন, “৪-৫ দিনের মধ্যেই সব শিক্ষক টিকা নিয়ে নিবেন আশা করি।”

মহামারীতে গত বছরের মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, টিকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৬১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১৪ জন, দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭২ জন।

মহামারীতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “নানা কারণে অনলাইন ও টিভি ক্লাসের বাইরে থেকে যাচ্ছিল অনেক বেশি শিক্ষার্থী। এখন অ্যাসাইনমেন্ট চালু করেছি, এটি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের আওতায় এসেছে।

“ব্যাপক হারে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার যে আশঙ্কাটি এসেছিল, অ্যাসাইনমেন্ট নিতে গিয়ে আমরা সেটি দেখছি না। সরাসরি ক্লাস শুরু হলে হয়তো বোঝা যাবে। একটা মহামারী যেহেতু চলছে, সব জায়গাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে যতটুকু করার আমরা করব।”

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ‘অনেক চাপের’ মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে মন্তব্য করে দীপু মনি বলেন, “সঠিক বেড়ে উঠবার, সৃজনশীল মানুষ হবার, প্রতিভা বিকশিত করার পরিবেশ ও সহযোগিতা বর্তমান ব্যবস্থায় অত বেশি নেই। সেই পরিবেশটা আমরা করতে চাই। যাতে তারা শিখবে, তা যেন প্রয়োগ করতে পারে।

“এখন যে সৃজনশীল ব্যবস্থা, তাতেও কতটা সৃজনশীলতা দিতে পারছি, ভাবাতে পারছি; সেটি নিয়েও আরও ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।”

শিক্ষায় ঘাটতি থাকায় কর্মক্ষেত্রে সেই সৃজনশীলতা মিলছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা সেভাবে শেখাতে পারছি না।”

তবে দেশের নানা রকমের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যে হঠাৎ একমুখী করে ফেলা সম্ভব নয়, সে কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থায় এত রকমের ভাগ; সেগুলোকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা রাতারাতি সম্ভব নয়। সব বাতিল করে এক রকম করা শিগগিরই সম্ভব নয়।

“তবে যে যে ধারায় থাকুক না কেন, মূল কোর সাবজেক্টগুলো যদি একই জিনিস পড়ে; তাহলে হয়ত সবাইকে একটি জায়গায় নিয়ে আসতে পারব।”

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থ খরচ করতে পারছে না জানিয়ে দীপু মনি বলেন, “সরকার বিনিয়োগ করছে, আরও করবে। কিন্তু গবেষণার পরিবেশ গবেষকদের তৈরি করতে হবে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে, কিন্তু সব ধরনের সুবিধা থাকার পরও অনেকে গবেষণায় ভালো করছে না। নতুন নীতিমালায় পদোন্নতি পেতে হলে সবাইকে গবেষণা করতে হবে।“

মহামারীকালে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাইলে সুবিধা নিতে পারে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

ইরাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম সুমনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম, ইরাবের সভাপতি সাব্বির নেওয়াজ, সহ-সভাপতি নিজামুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ